স্বাক্ষর বিতর্কে তৃণমূল বিধায়কদের বাড়িতে সিআইডি, বিস্ফোরক দাবি বাহারুল ইসলামের

স্বাক্ষর বিতর্কে তৃণমূল বিধায়কদের বাড়িতে সিআইডি, বিস্ফোরক দাবি বাহারুল ইসলামের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – বিরোধী দলনেতার রেজোলিউশনে স্বাক্ষর বিতর্কে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতেও পৌঁছে যায় সিআইডির একটি বিশেষ দল। সূত্রের খবর, বিরোধী দলনেতার রেজোলিউশনে থাকা স্বাক্ষর আদৌ বাহারুল ইসলামের কিনা, তা যাচাই করতেই তাঁর বাড়িতে যান তদন্তকারীরা।

আর সেখানেই উঠে আসে বিস্ফোরক দাবি। সিআইডির সামনেই বাহারুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, “৬ মে আমি বাড়ি থেকেই বের হইনি। তাহলে আমার সইটা কি ভূতে করল?” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর ১৫ বছরের শাসকদলের তকমা হারিয়ে বিরোধী আসনে বসে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর কে হবেন বিরোধী দলনেতা, তা ঠিক করতে ৬ মে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকের পরেই সর্বসম্মতিক্রমে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে তৃণমূল কংগ্রেস।

তবে বাহারুল ইসলামের দাবি, তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিতই ছিলেন না। তাঁর বক্তব্য, ভোট পরবর্তী হিংসার কারণে তিনি সেদিন সারাদিন ভাঙড়ের বাড়িতেই ছিলেন। সেই কারণেই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি মিটিংয়েই না যাই, তাহলে সইটা ভূতে করল?”

বিরোধী দলনেতার নামের সপক্ষে জমা দেওয়া রেজোলিউশনের স্বাক্ষর নিয়েই তৈরি হয়েছে এই বিতর্ক। বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির দায়ের করা মামলার তদন্তে নেমেছে সিআইডি। একাধিক তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই তালিকাতেই রয়েছে বাহারুল ইসলামের নাম।

এই ঘটনায় সরব হয়েছেন বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ও। তাঁর অভিযোগ, “পুরো দলটাই জালি। সম্মতিপত্রে কি তাহলে বিধায়করা সই করতে চাননি? ১৫ বছর ধরে তাহলে কত জাল সই হয়েছে।”

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ ঘিরে শুরু থেকেই টানাপোড়েন ছিল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেটারহেডে বিরোধী দলনেতার নাম পাঠানো নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ে। নিয়ম অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতার নাম স্থির করে সমস্ত বিধায়কের সম্মতিসূচক স্বাক্ষরসহ একটি রেজোলিউশন বিধানসভায় জমা দিতে হয়। সেই রেজোলিউশন স্পিকার গ্রহণ করলেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাওয়া যায়।

সেই স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করতেই সিআইডি তদন্তে নেমেছে। আর সেই তদন্তের মাঝেই নিজের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ তুলে কার্যত দলের বিরুদ্ধেই আঙুল তুললেন বাহারুল ইসলাম। সূত্রের খবর, এদিন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও যান সিআইডির আধিকারিকরা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top