এলপিজি মজুত বাড়ানোর নির্দেশ কেন্দ্রের, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তৎপর সরকার

এলপিজি মজুত বাড়ানোর নির্দেশ কেন্দ্রের, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তৎপর সরকার

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



দেশ – আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলিকে কমপক্ষে ৩০ দিনের এলপিজি মজুত বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, তেল ও গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, তেল সংস্থাগুলিকে অন্তত ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সংস্থাগুলি সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে এলপিজির দৈনিক চাহিদা প্রায় ৭২ হাজার মেট্রিক টন, যা আগে ছিল প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন। অন্যদিকে ভারতীয় শোধনাগারগুলি প্রতিদিন প্রায় ৫২ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি উৎপাদন করছে।

উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে সুজাতা শর্মা জানান, বিভিন্ন শোধনাগারে প্রযুক্তিগত অপটিমাইজেশন এবং সি-৩ ও সি-৪ অণুর ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনের ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে। এছাড়াও, কিছু শোধনাগার পুনরায় চালু হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং বাজারে এলপিজির সহজলভ্যতা বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, ঋতুভেদে এলপিজির চাহিদায় ওঠানামা দেখা যায়, যা সামগ্রিক ব্যবহারের উপর প্রভাব ফেলে। সেই কারণেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির উপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, বর্তমানে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রিতে সংস্থাগুলির প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৭১ টাকা বেড়েছে। গত কয়েক দফার বৃদ্ধির ফলে দুই জ্বালানির দাম মিলিয়ে প্রায় সাড়ে সাত টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে তেল আমদানির গড় মূল্য ছিল প্রতি ব্যারেল ৬৯.০১ ডলার। যা মে মাসে বেড়ে ১০৬.৮৩ ডলারে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে কালোবাজারি, অবৈধ মজুত এবং জ্বালানি আত্মসাৎ রোধে রাজ্য সরকারগুলিকে বিশেষ নজরদারি দল গঠনের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র।

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি তথ্য ও নির্দেশিকার উপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top