বিনোদন – সমাজমাধ্যমের পরিচিত মুখ এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তীর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে অনুরাগী মহলে। প্রাণবন্ত হাসি, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং পশুপ্রেমের জন্য পরিচিত সায়নীর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও আলোড়ন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তার বন্যা বইতে শুরু করেছে।
সায়নী মূলত তাঁর পোষ্য গরু ‘সুন্দরী’ এবং ‘পরি’-কে নিয়ে তৈরি করা ভিডিওর মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। গ্রামবাংলার আবেগ, প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত তুলে ধরে তিনি অসংখ্য মানুষের মন জয় করেছিলেন। ফেসবুক পেজে নিয়মিত নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, সাজপোশাক এবং ছোট ছোট গল্পও ভাগ করে নিতেন তিনি।
সম্প্রতি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন সায়নী। সেই সাফল্যের খবরও তিনি আনন্দের সঙ্গে অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। তাঁর ফেসবুক পেজে ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’— এই উক্তিটি বিশেষভাবে নজর কাড়ত, যা তাঁর জীবনদর্শনেরই প্রতিফলন বলে মনে করতেন অনেকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলির মগরা গজঘন্টা দেপাড়া এলাকার বাসিন্দা ২৩ বছরের সায়নী চক্রবর্তীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় তাঁর ঘর থেকে। খবর পেয়ে মগরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামপাড়া হাসপাতালে পাঠায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি বলেও জানা গিয়েছে।
হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের অপেক্ষা করা হচ্ছে। অভিযোগ দায়ের হলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সায়নীর অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তাঁর অনুরাগীরা। প্রাণীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, সহজ জীবনযাপন এবং ইতিবাচক কনটেন্টের জন্য তিনি বহু মানুষের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু ঘিরে এখনও নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার, অনুরাগী এবং তদন্তকারী সংস্থা।




















