রাজ্য – আর জি কর মেডিক্যাল কলেজকে ঘিরে বিতর্কের আবহে ফের বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্যাথোলজি বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাঃ বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের চাকরি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার এই মর্মে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে তথাকথিত ‘থ্রেট কালচার’ চালানোর অভিযোগ উঠেছিল বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, একাধিক ফৌজদারি মামলা, এফআইআর এবং দুর্নীতি দমন সংস্থার তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে স্বাস্থ্যভবন। তদন্তে অভিযোগগুলির সত্যতা পাওয়া গিয়েছে বলেই দাবি প্রশাসনের। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি সাসপেন্ড ছিলেন। এবার তাঁর সিনিয়র রেসিডেন্সির মেয়াদ সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ইনডেমনিটি বন্ডের শর্ত অনুযায়ী তাঁকে দুই বছরের জন্য মোট ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ভবিষ্যতে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনও চাকরির ক্ষেত্রে বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলকেও অবহিত করা হয়েছে।
বিজেপি বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নতুন পশ্চিমবঙ্গে থ্রেট কালচার, সিন্ডিকেটরাজ এবং দালালরাজের কোনও স্থান নেই। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন এই পদক্ষেপ বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের বহুচর্চিত খুন ও ধর্ষণকাণ্ডের তদন্ত চলাকালীন সময়ে বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের নাম আলোচনায় আসে। তিনি আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য দফতরের এই পদক্ষেপ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।



















