কৃষ্ণনগর স্টেশনে বুলডোজার অভিযান, বিক্ষোভ-ধস্তাধস্তির মধ্যেই উচ্ছেদে সফল রেল

কৃষ্ণনগর স্টেশনে বুলডোজার অভিযান, বিক্ষোভ-ধস্তাধস্তির মধ্যেই উচ্ছেদে সফল রেল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



নদিয়া – রেলের জমি দখলমুক্ত করার অভিযানে এবার বুলডোজার চলল কৃষ্ণনগর স্টেশন চত্বরে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এলাকায়। সিপিআইএম, সিটু, এসইউসিআই-সহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বচসা ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। তবে সমস্ত বাধা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানে সফল হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬ জুনের মধ্যে স্টেশন চত্বর ও রেলের জমিতে থাকা সমস্ত অবৈধ দোকান ও নির্মাণ সরিয়ে ফেলার জন্য আগেই নোটিস জারি করা হয়েছিল। সেই নোটিস পাওয়ার পর অনেক ব্যবসায়ী ১৫ জুন রাতেই নিজেদের দোকানপাট সরিয়ে নেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সোমবার সকালেই উচ্ছেদ অভিযানে নামে রেল ও প্রশাসন।

তবে অভিযান শুরুর আগেই কৃষ্ণনগর স্টেশন চত্বরে জড়ো হন সিপিআইএম, সিটু, এসইউসিআই এবং বিভিন্ন হকার সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তর্কাতর্কি থেকে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। যদিও শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই অভিযান চালিয়ে যায় রেল।

অভিযানের সময় বুলডোজার ব্যবহার করে স্টেশন চত্বরের সমস্ত অবৈধ দোকান, স্থাপনা ও নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। উচ্ছেদ অভিযানের কোপে পড়ে সিটুর একটি দলীয় কার্যালয়ও। প্রশাসনের দাবি, রেলের জমিতে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা সমস্ত কাঠামোই নিয়ম মেনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর বিজেপি, রেল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই দীর্ঘদিনের জীবিকা নির্বাহের জায়গা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, বহুদিন আগেই নোটিস জারি করা হয়েছিল এবং আইন মেনেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশনে রেলের জমি দখলমুক্ত করার বিশেষ অভিযান চলছে। শিয়ালদহ, হাওড়া, দমদম-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে আরপিএফ ও রেল পুলিশ যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। এর আগে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ ও হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেখানে বামপন্থী সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভে সামিল হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

যাদবপুরের ক্ষতিগ্রস্ত হকাররা পরবর্তীতে আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই মামলায় হাই কোর্ট আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত যাদবপুরে উচ্ছেদ অভিযানের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। তবে আদালতের সেই নির্দেশ শুধুমাত্র যাদবপুরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে রাজ্যের অন্যান্য স্টেশনে রেলের জমি দখলমুক্ত করার অভিযান আপাতত অব্যাহত রয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top