দেশ – ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যতরীতে মার্কিন হামলা এবং তাতে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনার পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল বিরোধীরা। কেন ভারত আমেরিকার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে না, তা নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছিল কেন্দ্রকে। অবশেষে জি-৭ শীর্ষ বৈঠকের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেই বিতর্কের জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
জি-৭ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতেই বিষয়টি উত্থাপন করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “বহু ভারতীয়র প্রাণ গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নাবিকরা বিভিন্ন দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তৈরি করেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে জলপথ নিরাপদ থাকবে এবং নাবিকরা নির্ভয়ে নিজেদের কাজ করতে পারবেন।”
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যতরীতে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, ভারত সরকারের তরফে আমেরিকার বিরুদ্ধে যথেষ্ট কড়া অবস্থান নেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, আমেরিকা ভারতের সঙ্গে দাদাগিরি করছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার সেই বিষয়ে কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জি-৭ বৈঠকের মঞ্চকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী মোদি একদিকে যেমন সমালোচনার জবাব দিয়েছেন, তেমনই আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সমুদ্রপথে কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা ভারতের অন্যতম অগ্রাধিকার।
একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলা কূটনৈতিক উদ্যোগগুলিকেও স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আমরা স্বাগত জানাই। এই সংঘাতের ফলে আমাদের বন্ধু দেশগুলিতে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিও ধাক্কা খেয়েছে।”
বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোদি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংকটগুলির মধ্যে অন্যতম হল পারস্পরিক আস্থার অভাব। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে বিশ্বাস ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হওয়ার উপর।
জি-৭ বৈঠকের মঞ্চে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দেশের উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




















