কোচবিহারে অভিমান ভাঙল, মমতার সভামঞ্চে ফিরলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ

কোচবিহারে অভিমান ভাঙল, মমতার সভামঞ্চে ফিরলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কোচবিহার – বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে জমে থাকা অভিমান অনেকটাই কাটল দলনেত্রীর হস্তক্ষেপে। শুক্রবার Cooch Behar Ras Mela Ground-এ জনসভায় হাজির হলেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা Rabindranath Ghosh। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। সভামঞ্চ থেকেই Mamata Banerjee স্পষ্ট বার্তা দেন, “রবীন্দ্রনাথ ঘোষ আমার পুরনো দিনের সহকর্মী, এখনও দায়িত্বে আছে।” এই মন্তব্যে দলীয় কর্মীদের কাছে তাঁর গুরুত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন তিনি।
একসময় কোচবিহারের রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্যতম মুখ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে দু’বার বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় সমীকরণে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় অসন্তোষ তৈরি হয়। অভিমান করে কিছুটা সক্রিয় প্রচার থেকেও সরে দাঁড়ান তিনি। ফলে এই পরিস্থিতি নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোচবিহার সফরেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। শুধু সভামঞ্চে উপস্থিত থাকাই নয়, তার আগে দলনেত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকও করেন রবীন্দ্রনাথ। এমনকি সূত্রের দাবি, মমতার গাড়িতেই তিনি সভাস্থলে পৌঁছন। যদিও সেই বৈঠকের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনরাগমন তৃণমূলের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। কোচবিহারের মতো জেলায় স্থানীয় নেতৃত্বের প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, ফলে অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয়তা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহারে তৃণমূলের পরাজয়ের পর রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়। ২০২১ সালে নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হলেও তিনি জয় পাননি। পরে পুরসভা নির্বাচনে জিতে পুরপ্রধান হন, কিন্তু কয়েক মাস আগে সেই পদ থেকেও সরানো হয় তাঁকে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, কোচবিহারের সভামঞ্চে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং সংগঠনের ভিত মজবুত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন দেখার, এই ঐক্যের প্রভাব ভোটবাক্সে কতটা পড়ে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top