ভাঙনের আশঙ্কায় তৃণমূলে জরুরি বৈঠক, রবিবার কালীঘাটে ডাকলেন মমতা

ভাঙনের আশঙ্কায় তৃণমূলে জরুরি বৈঠক, রবিবার কালীঘাটে ডাকলেন মমতা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য। একের পর এক নেতা-নেত্রীর মুখ খোলা, দলীয় পদ থেকে ইস্তফা এবং প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে উপস্থিতি— সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরে। এই পরিস্থিতিতেই রবিবার ফের দলের বিধায়কদের কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠকে ডাকলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেই বৈঠকের দিকেই, যেখানে দলের কঠিন পরিস্থিতিতে কী বার্তা দেন নেত্রী, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যেই বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকেও তাঁকে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ও। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় একাধিক কাউন্সিলরের গণ ইস্তফার ঘটনাও দলের অন্দরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এরই মধ্যে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে একাধিক কেন্দ্রে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, প্রায় ৫০টি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করে মামলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে জানা যাচ্ছে, পরাজিত প্রার্থীদের অনেকেই আদালতে যেতে আগ্রহী নন। তাঁদের বক্তব্য, বিজেপি ইতিমধ্যেই সরকার গঠন করেছে। ফলে মামলায় জিতলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। এই অবস্থায় দলীয় নেতৃত্ব পরাজিত প্রার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই কালীঘাটের বাড়িতে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও বিধায়কদের সঙ্গে, কখনও পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে, আবার কখনও মেয়র, পুরপ্রধান ও কাউন্সিলরদের নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন তিনি। দলের সংগঠনকে কীভাবে চাঙ্গা রাখা যায় এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক রণকৌশল কী হবে, সেই দিকেই জোর দিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে নির্বাচনের পর থেকে বিরোধী শিবিরের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের একাধিক বিধায়কের যোগদান নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়িয়েছে। সম্প্রতি কল্যাণীতে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বিধায়কদের উপস্থিতি নজর কেড়েছিল। একইভাবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বৈঠকেও ১৩ জন বিধায়ক অংশ নেন এবং সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
এই আবহে রবিবারের কালীঘাট বৈঠক যে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, তা বলাই যায়।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top