লন্ডন থেকে দিল্লি, তাপপ্রবাহে কাঁপছে বিশ্ব! জলবায়ু পরিবর্তনের বড় সতর্কবার্তা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

লন্ডন থেকে দিল্লি, তাপপ্রবাহে কাঁপছে বিশ্ব! জলবায়ু পরিবর্তনের বড় সতর্কবার্তা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দেশ -;একদিকে ব্রিটেনে ভাঙছে মে মাসের উষ্ণতার রেকর্ড, অন্যদিকে উত্তর ভারতে তাপমাত্রা পৌঁছে যাচ্ছে ৪৬ থেকে ৪৮ ডিগ্রির কাছাকাছি। বিশ্বের দুই প্রান্তে একই ছবি এখন স্পষ্ট—অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি আর শুধুমাত্র মৌসুমি ওঠানামা নয়, বরং বদলে যাওয়া বৈশ্বিক জলবায়ুর বড় সংকেত।
গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোপ এবং ভারতীয় উপমহাদেশে যে হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বিশেষজ্ঞ মহলে। কারণ এই গরম কয়েক দিনের সাময়িক সমস্যা নয়, এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ুগত পরিবর্তন এবং বায়ুমণ্ডলীয় ভারসাম্যের বদল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের মূল কারণ উত্তর আফ্রিকা থেকে উঠে আসা উষ্ণ বায়ু। পশ্চিম ইউরোপের উপর তৈরি হওয়া বিশাল উচ্চচাপ বলয়ের মধ্যে সেই গরম বাতাস আটকে পড়েছে। এই উচ্চচাপ অঞ্চল কার্যত ঢাকনার মতো কাজ করছে, যার ফলে ঠান্ডা বায়ু প্রবেশ করতে পারছে না। ফলস্বরূপ দিনের পর দিন অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকছে।
আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ বলছে, গত কয়েক দশকে ইউরোপে উষ্ণতার প্রবণতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। উত্তর ইউরোপের বহু এলাকা এখন এমন গরমের মুখোমুখি হচ্ছে, যা আগে সাধারণত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দেখা যেত। এর ফলে ইউরোপের বহু শহর ভয়াবহ চাপে পড়ছে, কারণ দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ সামলানোর মতো পরিকাঠামো এখনও অনেক জায়গাতেই তৈরি হয়নি। বাড়ি, অফিস, গণপরিবহণ থেকে স্বাস্থ্যব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে চাপ। যে সব দেশে একসময় এয়ার কন্ডিশনারকে বিলাসিতা হিসেবে দেখা হত, সেখানে এখন তা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে।
ভারতীয় উপমহাদেশে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। উত্তর ভারতে বর্তমানে চলছে ‘নৌতপা’, যা ঐতিহ্যগতভাবেই বছরের সবচেয়ে উষ্ণ সময়গুলির একটি। তবে এবার স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকায় উদ্বেগ বেড়েছে বহুগুণ।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারতের বিস্তীর্ণ অংশের উপর তৈরি হয়েছে একটি স্থায়ী ‘হিট ডোম’ বা তাপ বলয়। এর ফলে গরম বাতাস আটকে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাক-বর্ষার মেঘ তৈরিতেও বাধা তৈরি হচ্ছে, ফলে বৃষ্টির সম্ভাবনাও কমে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে El Niño-র প্রভাব। মৌসুমি বৃষ্টির গতি দুর্বল হয়ে পড়ায় তাপ কমার সুযোগ মিলছে না। পাশাপাশি এ বছর পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সক্রিয়তা কম থাকায় উত্তর ভারতে ঠান্ডা বাতাস ও আর্দ্রতার সরবরাহও কমেছে। ফলে আবহাওয়া আরও শুষ্ক হয়ে দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এবার নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে তথাকথিত ‘ওয়েট-বাল্ব’ পরিস্থিতি। শুধু তাপমাত্রা নয়, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার যৌথ প্রভাবও এখন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মধ্য ও উপকূলীয় ভারতের একাধিক এলাকায় অতিরিক্ত আর্দ্রতার সঙ্গে চরম গরম মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এই পরিস্থিতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থায় শরীরের ঘাম সহজে বাষ্পীভূত হতে পারে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক ঠান্ডা থাকার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন বা গুরুতর শারীরিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পরিবেশবিদ এবং আবহাওয়াবিদদের মতে, এই তাপপ্রবাহকে শুধুমাত্র ঋতুগত অস্বাভাবিকতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ক্রমশ পরিষ্কার হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়—এটি এখন বর্তমানের বাস্তবতা। আর তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য, জীবনযাপন, নগর পরিকাঠামো এবং অর্থনীতির উপর।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top