রাজ্য – রাজ্য পুলিশের প্রশাসনিক রদবদলের মধ্যেই বদলি করা হল নন্দীগ্রাম থানার আইসি শুভব্রত নাথকে। তাঁকে সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। নন্দীগ্রাম থানার নতুন আইসি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অজয় কুমার মিশ্রা। এর আগে তিনি ব্যারাকপুর থানার আইসি পদে কর্মরত ছিলেন। একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদেও গুরুত্বপূর্ণ বদল আনা হয়েছে। ডিআইজি সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা আভরু রবীন্দ্রনাথকে লর্ড সিনহা রোডে রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের ডিআইজি (আইবি) পদে পাঠানো হয়েছে।
এই প্রশাসনিক রদবদলের আবহেই ফের আলোচনায় উঠে এল জঙ্গলমহলের অতীতের আতঙ্ক। ঝাড়গ্রামের রামগড় পুলিশ ফাঁড়িতে আচমকা সফরে যান বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ। তাঁর এই সফর ঘিরেই নতুন করে সামনে আসে ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের সেই রক্তাক্ত অধ্যায়, যখন মাওবাদী হামলায় কার্যত অশান্ত হয়ে উঠেছিল গোটা জঙ্গলমহল।
একসময় চারদিকে বারুদের গন্ধ, রক্তাক্ত রাস্তা এবং আতঙ্কের পরিবেশে দিন কাটাতে হত সাধারণ মানুষকে। মাওবাদীদের দাপটে কার্যত থমকে গিয়েছিল জঙ্গলমহলের জনজীবন। ২০০৯ সালে ঝাড়গ্রামের রামগড় পুলিশ ফাঁড়িতে মাওবাদী হামলার ঘটনা এখনও অনেকের মনে তাজা। সেই হামলায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল পুলিশ ফাঁড়িতে। প্রাণভয়ে পুলিশ কর্মীদের ফাঁড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল সে সময়। দীর্ঘ সময় মাওবাদীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল রামগড় সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হলেও, স্থানীয়দের একাংশের মতে সেই সময়ের ক্ষত এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি। ঠিক সেই আবহেই দীর্ঘ ১৫ বছর পর রামগড় পুলিশ ফাঁড়িতে পৌঁছে যান ঝাড়গ্রামের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ। সেখানে তিনি পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং ফাঁড়ির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি অতীতের সেই অশান্ত দিনের স্মৃতিচারণও করেন তিনি।
বিধায়ক বলেন, জঙ্গলমহলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যাতে আর কখনও ২০০৯ সালের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয়েও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। একইসঙ্গে পুলিশ কর্মীদের মনোবল বাড়াতে উৎসাহমূলক বার্তাও দেন তিনি।



















