দেশ – রাত পোহালেই ঈদ-উল-আযহা বা কুরবানি ঈদ। তার আগেই গোটা উত্তরপ্রদেশ জুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করল যোগী আদিত্যনাথ সরকার। শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং জেলা পুলিশকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভল থেকে অযোধ্যা, চন্দেলি থেকে মুজাফফরনগর— রাজ্যের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে জোরদার পুলিশ টহল চলছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেলের মাধ্যমে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। কোনও উস্কানিমূলক পোস্ট বা গুজব ছড়ালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
যোগী সরকারের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রকাশ্য স্থানে কুরবানি কিংবা রাস্তায় নামাজ পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত সম্ভল জেলায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুলদীপ সিং জানিয়েছেন, গোটা জেলাকে পাঁচটি জোন এবং ১৮টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি আরএএফ, পিএসি এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে ২৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা।
রাজধানী লখনউতেও কড়া সতর্কতায় রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। সকাল ১০টায় ঈদগাহে প্রধান নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে বারাণসীর একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ টহলদারি চালানো হচ্ছে। ডিসিপি কাশী গৌরব বনসলের নেতৃত্বে পুলিশ এবং আরএএফ কর্মীরা বেনিয়া পার্ক, নাই সড়ক ও মদনপুরা এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন। নিরাপত্তার জন্য ড্রোন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোথাও রাস্তায় নামাজ পড়তে দেওয়া হবে না। কোনও এলাকায় ভিড় বেশি হলে ধাপে ধাপে নামাজের আয়োজন করা হবে। একইসঙ্গে প্রকাশ্যে পশুবলি নিয়েও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালনের ক্ষেত্রে কোনওরকম আইনভঙ্গ বা অশান্তিকে বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনের দাবি, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখেই নিরাপত্তার সঙ্গে উৎসব পালন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।



















