রাজ্য – ভোট গণনার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার আগেই তৃণমূল শিবিরে দেখা গেল জোরদার তৎপরতা। শুক্রবার বিকেলে মুখোমুখি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও রাজনৈতিক মহলের অনুমান, মূল ফোকাস ছিল ভোট গণনা কেন্দ্র ও পরবর্তী পরিস্থিতি।
এই বৈঠকের পরই জানা যায়, শনিবার কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ফলে স্পষ্ট যে ভোট গণনার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কোনও ঘাটতি রাখতে চাইছে না শাসকদল।
দলীয় সূত্রের একাংশের মতে, বৈঠকে জেলা ও আসনভিত্তিক গণনার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কোন কেন্দ্রে কীভাবে নজরদারি রাখা হবে এবং কাউন্টিং এজেন্টদের ভূমিকা কী হবে—এসব বিষয়ই উঠে এসেছে আলোচনায়। অতীতে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগের যে প্রথা ছিল, তা এবারও রাখা হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়া তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলের একাংশের দাবি, অন্তত ১৭৭টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, আর প্রায় ৪৬টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। অন্যদিকে অভিষেক ঘনিষ্ঠ শিবিরের দাবি, দল ২০০-র বেশি আসনও পেতে পারে। যদিও এই সব তথ্য কোনওভাবেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি দল।
বুথফেরত সমীক্ষা নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত। একাধিক সমীক্ষায় তৃণমূলের ফল নিয়ে ভিন্ন ইঙ্গিত মিললেও দল তা সরাসরি নাকচ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই এই সমীক্ষাগুলিকে ‘চক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, অতীতেও এমন পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মমতা-অভিষেক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। এখন নজর শনিবারের ভার্চুয়াল বৈঠকের দিকে, যেখানে গণনার দিনের চূড়ান্ত কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




















