রাজ্য – রাজ্যে বর্ষার অগ্রগতি ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের কিছু অংশে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটেছে। আবহাওয়ার বিভিন্ন পূর্বাভাস মডেল এবং বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বর্ষা পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে দক্ষিণবঙ্গেও ধীরে ধীরে বর্ষার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৮ জুনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে।
বর্ষার অগ্রগতির সঙ্গে আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তবে বর্ষা পুরোপুরি ঢোকার আগে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘের প্রভাবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনাও দেখা দিতে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হলুদ ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে। দক্ষিণবঙ্গের দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে আপাতত গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এই অঞ্চলগুলিতে ১০ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু এলাকায় অস্বস্তিকর আবহাওয়াও অব্যাহত থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। শুধু আজ নয়, আগামী ১১ ও ১২ জুনও এই জেলাগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তির জন্য রাজ্যবাসীকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




















