রাজ্য – বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (Ayushman Bharat PM-JAY) কার্যকর করার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। রাজ্যে এই প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং প্রশাসনিক স্তরে উপভোক্তা নির্বাচন ও যাচাইয়ের কাজ জোরকদমে চালু করা হয়েছে।
গত ৬ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি-র তরফে কলকাতা পুরসভার কমিশনার, সব জেলার জেলাশাসক এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা ও মেমো পাঠানো হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, NFSA ডেটাবেসের ভিত্তিতে উপভোক্তা নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের উপভোক্তা চিহ্নিত করার জন্য জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA)-এর ডেটাবেসকেই মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই ডেটাবেসের আওতায় থাকা অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY), স্পেশাল প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড (SPHH) এবং প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড (PHH) রেশন কার্ডধারীদের তথ্য যাচাই করে উপভোক্তা তালিকা তৈরি করা হবে।
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, আজ ৯ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে উপভোক্তা যাচাই এবং ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য ২৫ জুনকে ডেডলাইন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে জেলা প্রশাসন ও পুরসভাগুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও ধরনের বিলম্ব না ঘটে।
প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য স্বাস্থ্য ভবনের তরফে চার দফা গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। ব্লক ও পুরসভা স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভেরিফিকেশন ও উপভোক্তা যাচাইয়ের জন্য ফিল্ড লেভেল কর্মী ও ভেরিফিকেশন অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে। এই কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারদের পদমর্যাদা ন্যূনতম গ্রুপ বি স্তরের হতে হবে বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) মেনে সম্পূর্ণ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চালাতে হবে এবং যোগ্য উপভোক্তাদের বকেয়া ই-কেওয়াইসি অনস্পট সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমস্ত তথ্য রিয়েল-টাইমে নির্দিষ্ট ডিজিটাল পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপে আপলোড করতে হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
রাজ্যে আবাস যোজনা এবং সড়ক যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা ইতিমধ্যেই বাস্তবায়নের পর এবার স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প চালুর এই উদ্যোগকে প্রশাসনিক মহলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এটি কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।




















