কলকাতা – তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামো ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এখনও জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছে। সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, দমকল এবং একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থার যৌথ অভিযানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এরই মধ্যে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বেআইনি নির্মাণের নেপথ্যের যোগসাজশ প্রকাশ্যে আনার দাবি তুলেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী।
দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, তারাতলার এই দুর্ঘটনা কলকাতায় দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছিল, তাকে আরও স্পষ্ট করে সামনে এনেছে। তাঁর মতে, এত বড় একটি নির্মাণ প্রকল্প কীভাবে অনুমোদন পেল এবং কোন কোন স্তরে প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা গাফিলতি ছিল, তা জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের কাছে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান তিনি। অধীররঞ্জন চৌধুরীর বক্তব্য, সরকারকে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করে জানাতে হবে কীভাবে এই নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থাগুলির ভূমিকা কী ছিল। তাঁর দাবি, পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ খুঁজে বের করলেই হবে না, বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত পুরো চক্র এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, নিরপেক্ষ তদন্তই ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সাহায্য করবে।
এদিন একইসঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) নিয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বহু ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানের রাজ্য। তাই ইউসিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের আগে দেশের সব রাজ্য সরকার এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা হওয়া উচিত।
অধীররঞ্জন চৌধুরীর মতে, এমন কোনও আইন আনা উচিত নয়, যা সমাজে নতুন করে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। বরং সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতেই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।



















