কলকাতা – কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে গ্রেফতারের পর একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। ঠাকুরপুকুর থানায় তোলাবাজির মামলা দায়েরের পর এবার হরিদেবপুর থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ উঠেছে। সেই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে সুদীপ পোল্লের ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার অভিজিৎ দাসকে। অভিযোগ, কাউন্সিলরের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং হুমকি দেওয়ার কাজ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে।
হরিদেবপুর থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, বৈশালীবাগ এলাকার এক বাসিন্দা নিজের জমিতে পাঁচিল নির্মাণের জন্য অনুমতি চাইতে যান। অভিযোগ, তখন কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে তাঁকে জানান, কাজটি করতে হবে তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রোমোটর অভিজিৎ দাসকে দিয়েই। অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করালে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও নাকি হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, অভিজিৎ দাস পাঁচিল তৈরির জন্য ৬ লক্ষ টাকা দাবি করেন। অথচ ওই কাজ ২ লক্ষ টাকার মধ্যেই সম্ভব ছিল বলে দাবি তাঁর। অতিরিক্ত টাকার দাবি নিয়ে সন্দেহ থাকলেও ভয় ও চাপের মুখে তিনি আগাম সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে দেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও কোনও কাজ শুরু হয়নি। উল্টে টাকা ফেরত চাইতেই শুরু হয় হুমকি।
অভিযোগে আরও উঠে এসেছে এলাকার এক দাপুটে ব্যক্তির নাম, যিনি কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘদিন ভয় দেখানোর কারণে তিনি মুখ খুলতে পারেননি। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাহস করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রোমোটর অভিজিৎ দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সুদীপ পোল্লেকে ঠাকুরপুকুর থানার হেফাজত থেকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ। অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।
এদিকে পৃথক ঘটনায় সরশুনা থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুবনেতা তপন বিশ্বাসকে। তাঁর বিরুদ্ধেও তোলাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে সুদীপ পোল্লে ঠাকুরপুকুর থানার হেফাজতে রয়েছেন। বেহালা অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।



















