রাজ্য – শিলিগুড়ির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ শুনে সরাসরি আশিঘর পুলিশ ফাঁড়িতে পৌঁছে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তোলাবাজি, জমি দখল, বালি মাফিয়ার দৌরাত্ম্য এবং অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ সামনে আসার পর পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, একই অভিযোগ নিয়ে দ্বিতীয়বার যেন তাঁকে সেখানে যেতে না হয়।
বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শেষে শিলিগুড়ি ফিরে বর্ষাকালে এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে জল জমা, রাস্তার বেহাল অবস্থা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার খোঁজ নেন তিনি। সেই সময়ই একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তোলাবাজি, জমি দখল ও বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এরপরই ভক্তিনগর থানার অধীন আশিঘর পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। পাশাপাশি সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, একই সমস্যা নিয়ে আবার তাঁকে সেখানে যেতে হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর রয়েছে। অতীতের মতো কোনও অনিয়ম বা দুর্নীতিকে আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এলাকার পরিকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি জানান, বর্ষার কারণে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির একাধিক রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বর্ষার মধ্যে নতুন রাস্তা তৈরি করলে তা টেকসই হবে না বলেই আপাতত অপেক্ষা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে দুর্গাপুজোর আগেই রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও পরিকাঠামো নিয়ে পর্যটনমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর সকলের।




















