নথি সরানোর অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা, হালিশহর পুরসভায় বিক্ষোভের মুখে প্রাক্তন চেয়ারম্যানের ভাই

নথি সরানোর অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা, হালিশহর পুরসভায় বিক্ষোভের মুখে প্রাক্তন চেয়ারম্যানের ভাই

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


নদিয়া – হালিশহর পুরসভায় গুরুত্বপূর্ণ নথি সরানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুরসভা চত্বর কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বিক্ষুব্ধ জনতার ক্ষোভের মুখে পড়েন সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষের ভাই পাপন ঘোষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, হালিশহর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর তথা সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষের ভাই পাপন ঘোষ এদিন পুরসভায় আসেন। অভিযোগ, আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সরানোর উদ্দেশ্যেই তাঁর এই আগমন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরসভা চত্বরে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিজেপি কর্মীরা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুরসভা থেকে নথি নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পুরসভায় ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে এবং সেই সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একসময় বিক্ষোভকারীরা পাপন ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং জুতো প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়। উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ভিড়ের মধ্য থেকে পাপন ঘোষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। ঘটনার জেরে বেশ কিছু সময়ের জন্য পুরসভা চত্বর অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়।

এই প্রসঙ্গে হালিশহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি মণ্ডলের সহ-সভাপতি জ্যোতির্ময় গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পুরসভায় দুর্নীতি চলেছে এবং তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাঁর দাবি, আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশেরও দাবি, পুরসভার আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, যদি কোনও অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তার সমস্ত তথ্য সামনে আনা উচিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

ঘটনার পর নথি সরানোর অভিযোগের নেপথ্যে আরও বড় কোনও চক্র কাজ করেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।

সব মিলিয়ে হালিশহর পুরসভার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top