রাজ্য – প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও নবান্নের পক্ষ থেকে পাঠানো PSO (পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার) পদমর্যাদার একাধিক আধিকারিককে তাঁর বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে সূত্রের খবর।
লালবাজারের পক্ষ থেকে এদিন আরও ছয়জন PSO আধিকারিককে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে পাঠানো হয়েছিল। তবে তাঁরা কেউই বাড়ির ভিতরে প্রবেশের অনুমতি পাননি। ফলে সকাল থেকেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায় ওই আধিকারিকদের।
সূত্রের দাবি, বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন তাঁর দলের কয়েকজন আস্থাভাজন যুবক। তাঁদের সঙ্গে সীমিত সংখ্যক পুলিশকর্মীও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কালীঘাটে এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যায়, যা রাজনৈতিক মহলেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
জানা গিয়েছে, এক পর্যায়ে একজন PSO-কে বাড়ির ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও প্রায় দশ মিনিট পর তাঁকে বাইরে বেরিয়ে আসতে হয়। এরপর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন যুবক আধিকারিকদের জানান যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের প্রবেশের অনুমতি দেননি এবং তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে কোনও PSO প্রয়োজন নেই।
মমতা ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবান্নের পক্ষ থেকে নিযুক্ত PSO পরিষেবা গ্রহণ করতে রাজি নন। সেই কারণে সরকারি নিরাপত্তা আধিকারিকদের বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে হচ্ছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কালীঘাট এলাকায় কলকাতা পুলিশের বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল চালাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে মোট পাঁচজন PSO ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা বলয়ের অংশ ছিলেন বলেও জানা যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।



















