দিল্লী – ডাক্তারি পড়ার সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG 2026 প্রশ্নফাঁস মামলায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল Central Bureau of Investigation। শনিবার রাজধানী দিল্লি থেকে মণীষা গুরুনাথ মান্ধারে নামে পুণের এক বোটানির অধ্যাপিকাকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত অধ্যাপিকা পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা National Testing Agency-র নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং সেই সূত্রেই প্রশ্নপত্রে তাঁর সরাসরি প্রবেশাধিকার ছিল।
গত ৩ মে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিট-ইউজি পরীক্ষা। প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে Rajasthan-এ তদন্তে উঠে আসে, কিছু পরীক্ষার্থীর হাতে আগেভাগেই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছিল। এরপরই পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তদন্তে নেমে সিবিআই জানতে পেরেছে, ফাঁস হওয়া সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রে মোট ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। তার মধ্যে অন্তত ১২০টি রসায়নের প্রশ্ন মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। শুধু প্রশ্নই নয়, উত্তর বিকল্পগুলিও একই ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই তথ্য সামনে আসতেই গোটা পরীক্ষাপদ্ধতির নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ১০ মে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করা হয়। পরে শুক্রবার National Testing Agency জানায়, বাতিল হওয়া নিট-ইউজি পরীক্ষা আগামী ২১ জুন পুনরায় নেওয়া হবে।
এর আগেই শুক্রবার নিট প্রশ্নফাঁস মামলার মূলহোতা বলে অভিযুক্ত PV Kulkarni-কে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। মহারাষ্ট্রের লাতুরের বাসিন্দা কুলকার্নি স্থানীয় দয়ানন্দ কলেজের রসায়নের অধ্যাপক ছিলেন। কিছুদিন আগে অবসর নিলেও তিনি এনটিএ-র সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ, পরীক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়েই তিনি প্রশ্নপত্র হাতিয়ে ফেলেছিলেন।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জয়পুর, গুরুগ্রাম, নাসিক, পুণে এবং অহল্যানগর থেকে মোট সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুই অভিযুক্তকে পুণের আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে বড় চক্রের ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।


















