রাজ্য – আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ তুললেন নির্যাতিতার বাবা-মা। শিয়ালদহ আদালতে দাঁড়িয়ে তাঁরা দাবি করেন, আদালতে কী বলা যাবে আর কী বলা যাবে না, তা সিবিআইয়ের আইনজীবীরাই তাঁদের আগে থেকে ‘শিখিয়ে’ দিয়েছিলেন।
শুক্রবার শিয়ালদহ আদালতে মামলার স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। সেই সময়ই আদালতে দাঁড়িয়ে তদন্তের অগ্রগতি ও ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তের সময় সঠিকভাবে সহযোগিতা না করে বরং ভয় দেখানো হয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে চলার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।
নির্যাতিতার বাবার দাবি, আদালতে তাঁদের বক্তব্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল সিবিআইয়ের আইনজীবীর পক্ষ থেকে। এমনকি তদন্তকারী অফিসার তাঁদের বাড়িতে গিয়ে নির্দিষ্ট বক্তব্যের বাইরে কিছু বললে অভিযুক্তকে আটক রাখা কঠিন হবে বলে সতর্ক করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে এখনও তদন্তের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-কে তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। তাঁদের অভিযোগ, এই ব্যক্তিদের ভূমিকা যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। যদিও সিবিআই আদালতে জানায়, এদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
নির্যাতিতার মা, যিনি বিজেপি বিধায়ক হিসেবেও পরিচিত, আদালতে ঘটনার রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, হাসপাতালের ভিতরে দীর্ঘ সময় তাঁদের মেয়ের দেহ দেখতে দেওয়া হয়নি এবং ঘটনাস্থলে অসংখ্য পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। তাঁর মতে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালের এক চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, যিনি দেহের অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে, যা প্রমাণ নষ্টের সমান হতে পারে। পাশাপাশি তৎকালীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এই মামলায় সিবিআইয়ের ভূমিকা ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পরিবারের এই বিস্ফোরক অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালত চত্বরে এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।




















