কলকাতা: কলকাতা থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর দিল্লিতে বসে একদিন লিখেছিলেন, “জীবিত নেবে না আমাকে ও শহর। মরলে নেবে তো? প্রিয় কলকাতা।” প্রিয় শহর থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা এবং তৎকালীন সরকারের প্রতি ক্ষোভ থেকেই জন্ম নিয়েছিল এই অভিমানী প্রশ্ন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রায় ১৯ বছর বাদে গত ৩১ জুলাই কলকাতায় পা রেখেছিলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। পরদিন, ১ অগস্ট রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত হয়েছিল ‘ফেরা’ অনুষ্ঠান।
সেই অনুষ্ঠানে নিজের লেখা কবিতা পাঠ করেছিলেন তসলিমা। পাশাপাশি মৌসুমী হোসেনের কণ্ঠ ও সুরে তাঁর লেখা কবিতা গান হয়ে ধরা দিয়েছিল শ্রোতাদের সামনে। দীর্ঘদিন পর প্রিয় শহরে ফিরে আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছিলেন লেখিকা ও তাঁর অনুরাগীরা। ওই অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, তসলিমা যখন ইচ্ছে কলকাতায় আসতে পারেন, তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে সরকারের।
সেই ঘোষণার প্রায় দু’মাস পর ফের কলকাতায় ফিরলেন তসলিমা নাসরিন। গত ৮ অক্টোবর মহাজাতি সদনে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর কবিতার সন্ধ্যা। কবিতাকে কেন্দ্র করে এই অনুষ্ঠান যেন আরও একবার লেখিকার সঙ্গে তাঁর প্রিয় শহরের সম্পর্ককে সামনে নিয়ে এল।
নির্বাসন, বিচ্ছেদ, অভিমান এবং ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা—তসলিমার লেখায় বারবার উঠে এসেছে এই অনুভূতিগুলি। কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও শুধু একটি শহরে বসবাসের স্মৃতি নয়; তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাহিত্য, পরিচিত পরিবেশ এবং বহু অনুরাগীর ভালোবাসা। তাই তাঁর প্রতিবার কলকাতায় ফিরে আসা ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন আবেগ ও আলোচনা।
দীর্ঘ বিরতির পর শহরে ফেরার এই ধারাবাহিকতা তসলিমা ও কলকাতার সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। যে শহরকে একদিন অভিমানের সুরে প্রশ্ন করেছিলেন, সেই শহরেই আবার কবিতার মাধ্যমে নিজের কথা শোনালেন লেখিকা।




















