হুগলি: কলকাতা বন্দরের উপর চাপ কমাতে হুগলির বলাগড়ে গড়ে উঠতে চলেছে মিনি বন্দর। এই প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন এলাকার বাসিন্দারা। শ্রীপুর চরে প্রস্তাবিত বন্দরের জন্য রাস্তা ও সেতু নির্মাণের কাজের সূচনা হল ভূমিপুজোর মাধ্যমে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং এলাকার আর্থসামাজিক পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিঙ্গুরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই মিনি বন্দরের শিলান্যাস করেছিলেন বলে জানানো হয়েছে। এরপর রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার এবং কেন্দ্রে একই দলের সরকার থাকায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদী স্থানীয় মহলের একাংশ।
বলাগড়ে বন্দর তৈরির পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরনো ইতিহাসও। ১৯৯৬ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির জন্য চাষিদের কাছ থেকে জমি নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। ওই এলাকায় পোর্ট ট্রাস্টেরও কিছু জমি রয়েছে। বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যায় সেতুর রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে বাতিল হয়ে যায় বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা।
প্রস্তাবিত বন্দর তৈরির জন্য শ্রীপুর চরের ভৌগোলিক অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, গঙ্গা থেকে অর্ধচন্দ্রাকৃতির একটি খাঁড়ি পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে গিয়ে ফের গঙ্গায় মিশেছে। মাঝের চর এলাকাতেই গড়ে উঠতে পারে মিনি বন্দর। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থা তৈরি হবে।
এই প্রকল্পকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা কর্মসংস্থান। বলাগড় মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা। বন্দর চালু হলে কৃষিকাজের পাশাপাশি পরিবহণ, পণ্য ওঠানো-নামানো এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা স্থানীয়দের। এতে এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাশাপাশি গঙ্গার ভাঙন রোধেও এই প্রকল্প সহায়ক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তবে কর্মসংস্থান, বাণিজ্যিক কার্যকলাপ ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পের বাস্তব প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে নির্মাণকাজের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা এবং বন্দরের কার্যকর পরিচালনার উপর।




















