পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে সব শেষ! স্ত্রী-মেয়ের সামনেই মৃত্যু বারাসতের বুবাইয়ের, অসহায় স্ত্রী সাহায্য চাইলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে

পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে সব শেষ! স্ত্রী-মেয়ের সামনেই মৃত্যু বারাসতের বুবাইয়ের, অসহায় স্ত্রী সাহায্য চাইলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



স্থান: টুমলিঙ, দার্জিলিং

পুজোর ছুটিতে স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দের সফরই যে জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে উঠবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি বারাসতের বাসিন্দা বুবাই পাল (৪৭)। সান্দাকফু ঘুরে টুমলিঙে পৌঁছনোর পর হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। চোখের সামনে স্বামীকে হারিয়ে কার্যত দিশেহারা স্ত্রী জয়িতা পাল। একদিকে স্বামীকে হারানোর গভীর শোক, অন্যদিকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৭ অক্টোবর রাতে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে চেপে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন বুবাই, তাঁর স্ত্রী জয়িতা এবং মেয়ে। পরের দিন সকালে নিউ জলপাইগুড়িতে পৌঁছে সেখান থেকে মানেভঞ্জনের উদ্দেশে যান তাঁরা। সেখানে এক রাত কাটানোর পর পরের রাত সান্দাকফুতে ছিলেন। এরপর টুমলিঙে পৌঁছে সেখানেই রাত্রিবাসের পরিকল্পনা ছিল পরিবারের।

কিন্তু পাহাড়ের সেই সফরে আচমকাই নেমে আসে বিপর্যয়। জয়িতার দাবি, বেড়াতে যাওয়ার আগে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন তাঁর স্বামী। টুমলিঙে পৌঁছেও কোনও অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি। রাতে খাওয়াদাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করছিলেন বুবাই। হঠাৎ জল চান তিনি। স্ত্রী জল দিতে যেতেই আচমকা তাঁর ও মেয়ের গায়ে ঢলে পড়েন বুবাই।

সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জয়িতা। তাঁর কথায়, “সুস্থ মানুষ। সবই ভাল ছিল। কোনও সমস্যা ছিল না। টুমলিঙে রাতেও স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া করল। তারপর হঠাৎই গল্প করতে করতে একটু জল চাইল। সেই জল দিতে দিতেই উনি আমার আর মেয়ের হাতের উপর শরীরটা ছেড়ে দিলেন।”

এরপর তড়িঘড়ি সাহায্যের চেষ্টা করা হয়। টুমলিঙের হোমস্টেতে উপস্থিত এক চিকিৎসক প্রথমে বুবাইকে পরীক্ষা করেন। পরে তাঁকে নীচে নামিয়ে আরও এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। চিকিৎসকদের মতে, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে বুবাইয়ের। দার্জিলিঙে মৃতদেহের ময়নাতদন্তেও সেই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন জয়িতা।

এক মুহূর্তে স্বামীকে হারিয়ে দিশাহারা জয়িতার সামনে এখন একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া মেয়ের পড়াশোনা এবং সংসারের দায়িত্ব কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন বুবাইয়ের স্ত্রী।

পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি পরিবারটির জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। যে সফর ঘিরে ছিল আনন্দ আর একসঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন, সেই সফরই কেড়ে নিল পরিবারের অন্যতম ভরসাকে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top