স্থান: পঞ্চানন, বিষ্ণুপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা
কাকদ্বীপে সরকারি কর্মসূচি ও প্রশাসনিক বৈঠক সেরে সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিষ্ণুপুর থানার অন্তর্গত পঞ্চানন এলাকায় গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপুজোর আনন্দের আবহে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো কলেজছাত্রী স্নেহা ভাণ্ডারীর বাড়িতে পৌঁছে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে আর্থিক সাহায্যও তুলে দেওয়া হয়।
স্নেহার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের আবহে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবারটির জীবনে যে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ঘিরে এলাকায় এখনও শোকের পরিবেশ রয়েছে।
এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসন্ন কালীপুজো নিয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা জানান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলি নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে। উৎসবের সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনকে সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এ বছর রাজ্যে প্রায় ৬৬ হাজার দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে। চোরবাগানের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বাকি পুজো ও বিসর্জন পর্ব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চোরবাগানের মর্মান্তিক বিপর্যয় প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমন ঘটনা না ঘটলেই ভালো হত। তবে যেহেতু দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তাই তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোই সরকারের প্রধান কর্তব্য।
আগের ও বর্তমান সরকারের কাজের তুলনা প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, মানুষ সব কিছু দেখছেন এবং সময়মতো বিচার করবেন।
একদিকে দুর্ঘটনায় মৃত কলেজছাত্রীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, অন্যদিকে আসন্ন কালীপুজোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক প্রস্তুতি—দুই বিষয়েই এদিন বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মরশুমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকা যে প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তা তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।



















