কলকাতা – নারী নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে কলকাতা পুলিশের প্রতিটি থানায় চালু হতে চলেছে ‘মহিলা হেল্প ডেস্ক’। এই উদ্যোগকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার লালবাজারে ১৮৩ জন মহিলা পুলিশকর্মী ও আধিকারিককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা। এছাড়াও একজন ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট পুলিশকর্মীদের ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সংবেদনশীলভাবে আচরণ এবং তাঁদের মানসিক পরিস্থিতি বোঝার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও নারীর অভিযোগ শুধুমাত্র ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট থানার আওতায় না পড়ার কারণে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করতে হবে। একইসঙ্গে কোনও নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার খবর মিললেই অপহরণের মামলা রুজু করে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ধর্ষণ, সাইবার হয়রানি, রাস্তায় পিছু নেওয়া, পকসো-সহ নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযোগকারীরা প্রায়ই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই মহিলা হেল্প ডেস্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশকর্মীদের শুধু আইনি সহায়তা নয়, ভুক্তভোগীদের মানসিক অবস্থার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও সংবেদনশীল আচরণের মাধ্যমে আস্থা অর্জনের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও ভুক্তভোগী মহিলার পোশাক, জীবনযাপন বা চরিত্র নিয়ে কোনও ধরনের অসংবেদনশীল মন্তব্য করা যাবে না। তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখতে হবে এবং অভিযোগ গ্রহণ বা জিজ্ঞাসাবাদের সময় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অন্য কোনও ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত না থাকেন। নারী নিরাপত্তা ও ভুক্তভোগীদের প্রতি আরও মানবিক পুলিশি পরিষেবা নিশ্চিত করতেই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




















