আন্তরজাতিক – ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি নেপাল। গত ২৬ অগস্ট হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী করিডরে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ জল, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। পাহাড়ি নদীগুলিতে আচমকা জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এরই মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলাকালীন নতুন করে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশটি।
নেপাল সরকারের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বন্যা ও ধসের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১,৩৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা ৫,১০০-রও বেশি। এখনও পর্যন্ত ১৩,৬৪৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বিপর্যয়ের জেরে আহত বা অসুস্থ হয়ে ৭,১৫১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় ২১ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলিতে এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। জলস্রোতের সঙ্গে কাদা ও বড় বড় ধ্বংসাবশেষ ভেসে এসে বহু জায়গায় যোগাযোগব্যবস্থা ও জনজীবন বিপর্যস্ত করেছে। উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও চলছে।
নেপালের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে একাধিক দেশ। ভারত, চিন ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল এবং ফরেন্সিক সহায়তা পাঠিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন ও আমেরিকাও অর্থ, ত্রাণসামগ্রী, সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে।
ভারতের তরফে প্রায় ৯৫ টন ত্রাণসামগ্রী এবং ৫৪ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। দলে রয়েছেন টানেল উদ্ধার বিশেষজ্ঞ, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসাকর্মীরা। নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষাতেও নেপালকে সহযোগিতা করছে ভারতীয় দল। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় টানেল উদ্ধার অভিযানেও ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা সাহায্য করছেন।




















