রাজ্য – ভাঙড় ও উস্তিতে বিপুল পরিমাণ বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এবার তদন্তভার গেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র হাতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আজ রবিবার এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ভাঙড়ের কাশীপুর এলাকায় একটি তৃণমূল নেতার পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে বিপুল সংখ্যক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় প্রথমে তদন্ত শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। একই ঘটনায় মামলা দায়েরও করা হয়। কিন্তু নির্বাচনের মধ্যেই আচমকা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তে তদন্তের দায়িত্ব কলকাতা পুলিশের হাত থেকে সরিয়ে এনআইএ-কে দেওয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
গতকাল শনিবার গভীর রাত এবং রবিবার সকালে ভাঙড়ের কাশীপুর এলাকা থেকে ১০০-রও বেশি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বোম স্কোয়াড। দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
এরপরই দ্রুত মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে পুরো তদন্ত এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ভোটের সময় এই ধরনের সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকেও এদিন সমন্বয় বৈঠকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। পাশাপাশি বোমা নিষ্ক্রিয় করার কাজে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। ভোটের দিন কোনওভাবেই যাতে বিস্ফোরণ বা অশান্তির ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
এই পরিস্থিতিতে ভাঙড়-উস্তি কাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে, আর তদন্তের দায়িত্ব বদল নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।


















