রাজ্য – বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর আরও চাপে পড়লেন আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় এবার আইনি পদক্ষেপ করার জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-কে আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিল রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari নিজেও সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “আজ আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একটি মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। গত ৯ আগস্ট ২০২৪ সালে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বোন অভয়ার নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় তৎকালীন আর জি করের সুপার কুখ্যাত সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য ইডিকে অনুমতি প্রদান করা হল।”
তিনি আরও দাবি করেন, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই মামলার তদন্ত দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল। শুভেন্দুর কথায়, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা যায় না।” একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অভয়ার প্রকৃত দোষীরা দ্রুত চিহ্নিত হবে এবং কঠোরতম শাস্তি পাবে।
এদিকে, আর জি কর মামলাটি ফের কলকাতা হাই কোর্টে উঠছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টায় বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হওয়ার কথা। নির্যাতিতার বাবা-মা দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছেন। অভয়ার মা রত্না দেবনাথ বারবার মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের দাবি তুলেছেন। পরবর্তীতে তিনি বিজেপির টিকিটে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন।
এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং সেই সময়কার ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে জরুরি তলব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাতেই সন্দীপ ঘোষ ইস্যুতে আরও একবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লেখেন, “আমি চাই, বোন অভয়ার প্রকৃত দোষীরা দ্রুত চিহ্নিত হোক, কঠোরতম শাস্তি পাক এবং বাংলার মানুষ ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করুক। বোন অভয়ার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।”




















