রাজ্য – মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরই ঘোষণা করেছিলেন, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানো হবে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। রবিবার রাজ্য সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি নেতৃত্ব বারবার দাবি করেছিল, বাংলায় ক্ষমতায় এলে বন্ধ হয়ে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া ফের শুরু করা হবে এবং বেকারত্ব কমানোর দিকে জোর দেওয়া হবে। ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, গত সরকারের আমলে দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় বহু যুবক-যুবতী সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসার সুযোগই পাননি। সেই কারণেই বয়সসীমা এক ধাক্কায় পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন গ্রুপভিত্তিক চাকরির ক্ষেত্রে নতুন বয়সসীমা কী হবে। গ্রুপ ‘এ’-এর ক্ষেত্রে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪১ বছর। গ্রুপ ‘বি’-এর জন্য বয়সসীমা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪৪ বছর। আর গ্রুপ ‘সি’ ও ‘ডি’-এর চাকরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা করা হয়েছে ৪৫ বছর।
এই সিদ্ধান্তে বহু চাকরিপ্রার্থী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির আশায় প্রস্তুতি নিয়েও যারা বয়স পেরিয়ে যাওয়ার কারণে পরীক্ষায় বসতে পারেননি, তাঁদের কাছে এই ঘোষণা কার্যত নতুন সুযোগ এনে দিল। তবে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বহু মহিলার বিয়ে হয়ে সংসারের দায়িত্ব বেড়েছে। এত বছর পর ফের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে সফল হওয়া কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।




















