রাজ্য – রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাজ্য সরকার সমস্ত ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করে নতুনভাবে চালু করতে চলেছে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ যোজনা। একইসঙ্গে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন তিনি।
ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা এবং Ramakrishna Math and Ramakrishna Mission-এর মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আমরা আরও উৎসাহিত করব।”
এরপরই বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উদ্দেশে সরাসরি সতর্কবার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, “আপনারা যেভাবে বেতন ও সেমিস্টার ফি বাড়াচ্ছেন, সেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। এমন কিছু করবেন না যাতে সাধারণ পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা সমস্যায় পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও মূল্যায়ন পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ হয়ে যাচ্ছে, যা মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, “মেধা অনুযায়ী মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। না হলে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ছাত্রছাত্রীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।”
শিক্ষাক্ষেত্রে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখার উপরও জোর দেন তিনি। মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আরও স্বচ্ছতা ও সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে ধর্মীয় ভাতা প্রসঙ্গে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, “আজই মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমস্ত ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করে বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ যোজনা চালু করা হবে।”
তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই প্রকল্পে আর্থিকভাবে দুর্বল ছাত্রছাত্রীরা ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সুবিধা পাবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আধুনিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অর্থ কখনও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।”
সরকারি সূত্রে খবর, আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ এবার নতুনভাবে আরও বৃহত্তর পরিসরে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে আরও বেশি সংখ্যক পড়ুয়া এর সুবিধা পেতে পারে, সেই দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার মানদণ্ড নিয়ে খুব শীঘ্রই শিক্ষাদপ্তর বিস্তারিত ঘোষণা করবে বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ধর্মীয় ভাতার পরিবর্তে শিক্ষাক্ষেত্রে সেই অর্থ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের অন্যতম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে সামনে এল।




















