কলকাতা – প্রথম দফার ভোট ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন নজর দ্বিতীয় দফার দিকে, যেখানে আগামী ২৯ এপ্রিল ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা শহরের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা লালবাজারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হচ্ছে।
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ করে রাতের শহরে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রবেশ ও প্রস্থান পথ এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে চলছে টানা নাকা চেকিং। এবার এই নাকা তল্লাশিতে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন আইপিএস অফিসাররা, যাতে নজরদারি আরও কঠোর ও কার্যকর হয়।
নির্বাচন কমিশনের কড়া বার্তার পরই কলকাতা পুলিশ আরও সতর্ক হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটের সময় কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এমনকি পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এরপর থেকেই শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।
রাতভর শহরের বিভিন্ন জায়গায় চলছে পুলিশি টহল। র্যাফ, কুইক রেসপন্স টিম এবং বিশেষ বাহিনীকে সর্বক্ষণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে লালবাজারের কন্ট্রোল রুম থেকে। সন্দেহজনক কিছু নজরে এলেই দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ।
শহরে বাইরের যানবাহনের প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণেও কড়াকড়ি করা হয়েছে। বিভিন্ন চেকপোস্টে গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তল্লাশিও চালানো হচ্ছে। বেআইনি অস্ত্র, নগদ টাকা বা মাদক পাচার রুখতে এই অভিযানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ও গুজব ছড়ানো রুখতে সক্রিয় হয়েছে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল। বিভ্রান্তিকর তথ্য নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
লালবাজারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরকে শান্ত ও নিরাপদ রাখতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেটাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।



















