রাজ্য – ভোট পরবর্তী অশান্তি এবং ঘরছাড়াদের নিরাপত্তা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল Calcutta High Court। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যাঁরা অশান্তির জেরে ঘরছাড়া হয়েছেন কিংবা যাঁদের বাড়ি ও দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে, তাঁদের নিরাপদে ফেরানোর দায়িত্ব পুলিশকেই নিতে হবে।
All India Trinamool Congress-এর দায়ের করা মামলার শুনানিতে এদিন প্রধান বিচারপতি Sujay Paul এবং বিচারপতি Parthasarathi Sen-এর ডিভিশন বেঞ্চ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত জানিয়েছে, ঘরছাড়াদের দ্রুত বাড়ি ফেরানো এবং তাঁদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে। পাশাপাশি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। একই সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকেও হলফনামা জমা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।
গত ১২ মে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আইনজীবী Shirshanya Bandyopadhyay ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে এই মামলা দায়ের করেন এবং দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে অংশ নিয়ে আদালতে নিজের বক্তব্য পেশ করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee।
এদিন আইনজীবীর কালো পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একসময় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলানো নেত্রীকে এবার আদালতে আইনি লড়াইয়ের ময়দানে দেখে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ও আইন মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে অশান্তির অভিযোগ উঠছিল, এই মামলার মাধ্যমে সেই বিষয়টিকেই আদালতের নজরে এনে প্রশাসনের উপর চাপ বাড়াতে চাইছে বিরোধী শিবির। আদালতও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব পালনে পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমার অনেক কাজ আছে। এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই। আর আমি এসব নিয়ে ভাবতেও রাজি নই।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, প্রশাসনিক কাজকেই এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
এখন নজর আগামী তিন সপ্তাহের দিকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ ও রাজ্য সরকারের রিপোর্ট জমা পড়ার পর মামলার পরবর্তী শুনানিতে কী অবস্থান নেয় হাইকোর্ট, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।




















