কলকাতা
মুম্বইয়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাতের কয়েক দিনের মধ্যেই এবার নবান্নে রিলায়েন্সের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হল। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলায় সম্ভাব্য বিনিয়োগ, শিল্পের প্রসার এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রিলায়েন্সের প্রতিনিধিদল প্রথমে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করে। এরপর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন সংস্থার শীর্ষ কর্তারা। প্রায় দু’ঘণ্টার এই আলোচনায় পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ ও শক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে কথা হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা PPP মডেলের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
রিলায়েন্সের সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে ডেটা সেন্টার ও AI ক্লাউড পরিষেবা, আন্তর্জাতিক কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বা ফুড পার্ক, রাস্তা ও পরিকাঠামো এবং মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালের মতো প্রকল্পের কথা উঠে এসেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায় রিলায়েন্স জিও-র কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই প্রকল্পগুলির কোনওটিরই কত টাকা বিনিয়োগ হবে বা নির্দিষ্ট সময়সীমা কী হবে, তা এখনও চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
মুম্বইয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর মুকেশ আম্বানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরই বাংলায় রিলায়েন্সের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সামনে আসে। সেই বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের প্রসার এবং কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এবার সেই আলোচনার পরেই নবান্নে রিলায়েন্সের শীর্ষ কর্তাদের বৈঠক হওয়ায় সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে শুধু বিনিয়োগের পরিমাণ নয়, তার সঙ্গে কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে। রিলায়েন্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পরে রাজ্য সরকারের তরফে শিল্পের প্রসার এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট প্রকল্পে কত টাকা বিনিয়োগ হবে, কোথায় প্রকল্প তৈরি হবে বা কত মানুষের কর্মসংস্থান হবে—সেই বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। ফলে বুধবারের বৈঠককে আপাতত সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবগুলি চূড়ান্ত হয়ে বাস্তবায়নের পথে এগোলে তবেই বাংলার শিল্প ও কর্মসংস্থানে তার প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়ে, তা স্পষ্ট হবে।




















