রাজ্য – জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এবার আরও বড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। নির্দিষ্ট সংখ্যক ছাত্রীর অভিভাবকের সম্মতি মিললেই সংশ্লিষ্ট স্কুলের মধ্যেই আয়োজন করা হবে এইচপিভি টিকাকরণ শিবির। স্কুলভিত্তিক টিকাকরণের মাধ্যমে আরও বেশি কিশোরীর কাছে এই সুরক্ষা পৌঁছে দিতে চায় স্বাস্থ্য দপ্তর।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও স্কুলে অন্তত ৫০ জন ছাত্রীর অভিভাবক লিখিত সম্মতি দিলে সেই স্কুলেই টিকাকরণ শিবিরের ব্যবস্থা করবে স্বাস্থ্য দপ্তর। তার আগে অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠকের মাধ্যমে টিকার প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, মে মাসের শেষদিকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা হয়। এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চিকিৎসকদের মতে, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি জরায়ুমুখ ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। এই টিকা শরীরে ওই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচি শুরুর পর থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৯৪০ জন কিশোরীকে এইচপিভি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তবে গত দু’সপ্তাহে টিকাকরণের গতি কিছুটা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।
নতুন ব্যবস্থায় ১৪ বছর বয়সি ছাত্রীদের জন্য স্কুলের নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাকরণের ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য প্রতিটি স্কুলকে কাছাকাছি আর্বান প্রাইমারি হেলথ ক্লিনিকের সঙ্গে সমন্বয় বা ম্যাপিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সম্মতি মিললে সরাসরি স্কুলেই টিকাকরণ শিবির আয়োজন করা হবে।
প্রতিটি শিবিরে একজন মেডিক্যাল অফিসার, একজন টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মী এবং একজন ডেটা ম্যানেজার উপস্থিত থাকবেন। স্কুলের পক্ষ থেকে একজন শিক্ষককে সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের কাজ করবেন। স্কুলে শিবির হলে তিনটি পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া, এই টিকাকরণের জন্য আগে থেকে ইউ-উইন পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করার প্রয়োজন হবে না।




















