মুর্শিদাবাদ – মোথাবাড়ি কাণ্ডে তদন্ত আরও জোরদার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। ভোট গণনার আগেই যাঁকে তলব করা হয়েছিল, এবার তাঁকেই গ্রেপ্তার করল কেন্দ্রীয় সংস্থা। মালদহের কালিয়াচক-১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ সরিউল শেখকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে সুজাপুরের হালপাড়ার বাসিন্দা ভোলা শেখ ওরফে মানজিরকেও গ্রেপ্তার করেছে এনআইএ।
শুক্রবার রাতেই ধৃতদের নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন তদন্তকারীরা। শনিবার তাঁদের কলকাতায় আনা হয়। এনআইএ সূত্রে খবর, ১ এপ্রিল মোথাবাড়িতে বিডিও অফিসের ভিতরে বিচারকদের আটকে রাখা এবং সেই রাতেই সুজাপুর ও চৌরঙ্গী মোড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাতেই এই গ্রেপ্তারি।
এক বিবৃতিতে এনআইএ জানিয়েছে, ধৃত সরিউল শেখ কালিয়াচক থানার সুলতানগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি। অন্যদিকে ভোলা শেখের বাড়ি সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হালপাড়ায়। এই ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫৪।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মোথাবাড়ি কাণ্ডে কালিয়াচকের আরও এক তৃণমূল নেতা আবদুর রহমানকেও তলব করা হয়েছে। তিনি মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য এবং সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। এছাড়াও সুজাপুর ও কালিয়াচক এলাকার আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্যে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তৃণমূল ব্লক সভাপতির গ্রেপ্তার ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেলার বিভিন্ন মহলে এখন জল্পনা, তদন্তের জাল কি এবার আরও উপরের স্তরে পৌঁছবে? কোনও বিধায়কের বিরুদ্ধেও কি পদক্ষেপ হতে পারে? এই প্রশ্ন ঘিরেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে মোথাবাড়িতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময় বিডিও অফিসের ভিতরে বিচারকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। পরে ওই ঘটনার জেরে শুরু হয় তদন্ত।
প্রথমদিকে জেলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি কাদেরি। পরে রাজ্যের সিআইডি বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামকে। এরপর একের পর এক গ্রেপ্তারি চলে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার হাতে পায় এনআইএ। তারপর এনআইএ গ্রেপ্তার করে আইএসএফ নেতা গোলাম রাব্বানিকে। এছাড়াও কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরির ঘনিষ্ঠ দুই কংগ্রেস নেতা— ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি আসিফ শেখ এবং স্থানীয় নেতা শাহাদাত হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এবার তৃণমূল ব্লক সভাপতি-সহ আরও দু’জনের গ্রেপ্তারের পর মোথাবাড়ি কাণ্ডে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়ে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



















