কলকাতা: এনসিপিআই (NCPI)-কে ‘বিজেপির ঘরজামাই’ বলে কটাক্ষ করার পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে তীব্র আক্রমণ করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী। মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে অন্য দলে যোগ দেওয়ার পরেও সাংসদ পদ ধরে রাখার বিষয়টিকে তিনি নৈতিকতা ও সংসদীয় ব্যবস্থার পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার পরেও এভাবে সাংসদ পদ উপভোগ করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে অধীররঞ্জন চৌধুরী এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ওই সাংসদদের আইনি ও নৈতিক অধিকার নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতীকে মানুষের ভোটে জয়ী হয়ে পরে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিজেপির সমর্থনে সাংসদ পদে থাকা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি অসম্মান। অধীরের কথায়, “২০ জন সাংসদকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া দরকার। এটা একদমই বেআইনি, একদমই দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ। এটা অনৈতিকতার সবথেকে বড় প্রমাণ।”
দলত্যাগ বিরোধী আইন এবং সংসদীয় মর্যাদার প্রসঙ্গও টেনে আনেন প্রাক্তন সাংসদ। তাঁর দাবি, যে দলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে তাঁরা সংসদে পৌঁছেছেন, সেই দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে গিয়ে নতুন করে জনগণের রায়ের মুখোমুখি না হয়ে লোকসভার মেয়াদ উপভোগ করার নৈতিক অধিকার তাঁদের থাকা উচিত নয়। অধীর বলেন, “মানুষের ভোটে জিতে তারা এনসিপিআই নামক দলে গিয়ে বিজেপির ঘরজামাই হয়ে বসে আছে, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ওদেরকে বের করে দেওয়া উচিত।”
পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট ও লোকসভার অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, দলবদলের পর সাংসদরা যদি তাঁদের পুরনো রাজনৈতিক পরিচয় থেকে সরে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নেন, তাহলে নতুন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেই একই সাংসদ পদে থাকার বিষয়টি নিয়ে সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রশ্ন উঠতে পারে। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে তাঁর রাজনৈতিক আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে।




















