বিদেশ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফের স্পষ্ট জানিয়ে দিল—শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে আমেরিকা ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে কোনও ভাবেই ট্যুরিস্ট ভিসা মেলবে না। বৃহস্পতিবার এক্স-এ পোস্ট করে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি কোনও আবেদনকারীর ট্রাভেলের মূল উদ্দেশ্য সন্তান জন্ম দেওয়া বলে ভিসা আধিকারিক মনে করেন, তবে পর্যটক ভিসা সরাসরি বাতিল করা হবে। দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের উদ্দেশ্য অনুমোদিত নয়।
এমন এক সময়ে এই বার্তা সামনে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করার নির্দেশে সই করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন মাটিতে জন্মালেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যেত। ট্রাম্প প্রশাসন সেই ব্যবস্থাকেই এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এই আদেশই তাঁর দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্সির প্রথম বড় অভিবাসন-সংক্রান্ত পদক্ষেপ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে। শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানায়, তারা মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে—ফলে এই নীতি সাংবিধানিক কি না, তা শেষ পর্যন্ত আদালতই ঠিক করবে।
ট্রাম্পের নির্দেশ বহাল থাকলে মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অন্তর্গত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের ব্যাখ্যার অবসান ঘটবে। এত দিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে এই অধিকারকে দেখা হত। ক্ষমতায় ফিরে কঠোর অভিবাসন-নীতি বাস্তবায়নের অঙ্গ হিসেবে তিনি নাগরিকত্ব বাতিলের পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে নিয়ন্ত্রণমূলক অভিযান জোরদার করেছেন এবং শান্তিকালীন সময়ে ১৮শ শতকের Alien Enemies Act প্রয়োগের কথাও ঘোষণা করেছেন।
সম্প্রতি পলিটিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগে ‘লক্ষ লক্ষ মানুষ আমেরিকায় ঢুকেছে’, আর দেশ তাদের ‘আশ্রয় দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না’। তাঁর কথায়, এই অধিকার মূলত দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর দাসদের সন্তানের সুরক্ষার জন্য আনা হয়েছিল—বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতির সঙ্গে যার কোনও সম্পর্ক নেই। যদিও তিনি এও স্বীকার করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পক্ষে রায় দিলে আগের নিয়মে নাগরিকত্ব পাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত তিনি এখনও নেননি।



















