দিল্লি ও উত্তর ভারতে বাতাস ‘গ্যাস চেম্বার’, যোগগুরু রামদেবের অভিনব পরামর্শ বিতর্কে

দিল্লি ও উত্তর ভারতে বাতাস ‘গ্যাস চেম্বার’, যোগগুরু রামদেবের অভিনব পরামর্শ বিতর্কে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



দিল্লি – দিল্লি ও উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে বাতাস কার্যত ‘গ্যাস চেম্বার’-এর মতো হয়ে গেছে। শনিবার বায়ুদূষণের পরিস্থিতি এই দশকে সবচেয়ে খারাপ ছিল বলে অনেকেই জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় অভিনব এবং বিতর্কিত পরামর্শ দিয়েছেন যোগগুরু রামদেব। তাঁর মতে, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং ঘরে পর্দা টাঙানোই দূষণের প্রভাব কমাতে পারে, এয়ার পিউরিফায়ারের (Air Purifier) কোনও দরকার নেই।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রামদেব বায়ু পরিশোধন যন্ত্রকে ‘আমিরোঁ কা চোঁচলা’, অর্থাৎ ধনীদের ফ্যাশন বলে কটাক্ষ করেন। শনিবার একটি টিভি চ্যানেলের বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশের এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন রামদেব রোগ প্রতিরোধে যোগব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সঞ্চালকের প্রশ্ন ছিল, দূষণ এত বেশি হলে বাইরে কীভাবে ব্যায়াম করা সম্ভব? উত্তরে রামদেব হিন্দিতে বলেন, “দেখুন, দেশ এগোলে একটু ধুলো তো উড়বেই।”

রাজধানীর বার্ষিক দূষণ সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, “হ্যাঁ, দিল্লি মাঝে মাঝে গ্যাস চেম্বারের মতো হয়ে যায়।” সমাধান হিসেবে রামদেব পরামর্শ দেন, ঘরে পর্দা টাঙান এবং ১৫-২০ দিন অন্তর মাস্ক পরে পর্দা ঝাড়ুন। এছাড়া ঘরের ভিতর বসে দীর্ঘ শ্বাস নেওয়ার ব্যায়াম, বিশেষ করে কপালভাতি (Kapalbhati) করার কথাও বলেন। এয়ার পিউরিফায়ারের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, এগুলো ধনীদের ফ্যাশন ছাড়া কিছু নয়।

তাঁর মন্তব্যের দিনই দিল্লি, নয়ডা ও গোটা এনসিএর (NCR) বাতাসের মান এতটাই খারাপ হয় যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP) স্টেজ ৩ থেকে স্টেজ ৪ চালু করতে বাধ্য হয় সরকার। রবিবার সকালেও পরিস্থিতি আরও খারাপ। দিল্লি, নয়ডা, গাজিয়াবাদসহ একাধিক এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৫০০-এর কাছাকাছি পৌঁছায়, যা কার্যত ‘সিভিয়ার’-এরও উপরে।

এর মধ্যেই অন্য সুর শোনা যাচ্ছে চিকিৎসকমহল থেকে। চলতি মাসের শুরুতে দিল্লির বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অলোক চোপড়া ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, দিল্লির বায়ুদূষণকে কোনও অবস্থাতেই ‘নরমাল’ ধরে নেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, পরিষ্কার বাতাসে শ্বাস নেওয়া দৈনন্দিন অভ্যাসের বিষয় এবং ছোট ছোট সতর্কতাই বড় প্রভাব ফেলে।

ডা. চোপড়া একটি তথ্যচিত্রে খাদ্যাভ্যাস ও সাধারণ সতর্কতার কথাও তুলে ধরেছেন। ঘরে গাছ রাখা, হিউমিডিফায়ার ও এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া এয়ার কোয়ালিটি (AQI) কম থাকলে বাইরে থেকে বাতাস ঢুকতে দেওয়া, বাইরে বেরোলেও এন৯৫ মাস্ক ব্যবহার, শিশু ও প্রবীণদের ঘরের ভিতরে রাখা এবং ঘুমের সময় এয়ার পিউরিফায়ার চালু রাখার কথাও তিনি বলেছেন।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top