উত্তর 24 পরগণা – শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে সিবিআই মামলার অন্যতম সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষের গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার হল মূল অভিযুক্ত ট্রাকচালক। রবিবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট থানার পুলিশ বসিরহাটের মিনাখাঁ এলাকা থেকে ট্রাকচালক আবদুল আলিম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময়ে ট্রাকটি চালাচ্ছিল আবদুল আলিম মোল্লাই। তবে এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা, না কি পরিকল্পিত হামলা—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযুক্তকে কি কেউ সুপারি দিয়ে এই কাজ করিয়েছিল, সেই দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোলানাথ ঘোষের গাড়িতে ধাক্কা মারার পর ট্রাক থেকে নেমে একটি বাইকে চেপে পালিয়ে যায় আবদুল। সেই সময় থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধে যে, এই দুর্ঘটনার পিছনে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১০ ডিসেম্বর সকালে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির বয়ারমারি এলাকায়। একটি ট্রাক ও একটি চারচাকা গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার জেরে গাড়িটি রাস্তার পাশের নয়ানজুলিতে পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা গাড়িতে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের। পরে জানা যায়, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি ছিল শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে সিবিআই মামলার সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষের। দুর্ঘটনায় ভোলানাথ ঘোষের ছোট ছেলে সত্যজিৎ ঘোষ ও গাড়ির চালক শাহনুর আলমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হলেও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ভোলানাথ ঘোষ।
ঘটনার পর বসিরহাটের ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি আউটপোস্টে ভোলানাথ ঘোষ আটজনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন। এফআইআরে এক নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল এই ট্রাকচালকের। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এবার মূল অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের পর পুরো ঘটনার নেপথ্যের রহস্য আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।




















