উত্তর ২৪ পরগনায় একের পর এক বিতর্কে তৃণমূল নেতা-কাউন্সিলররা, গ্রেফতার উপপ্রধান, প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, ‘মধুচক্র’ অভিযোগে আটক কাউন্সিলর

উত্তর ২৪ পরগনায় একের পর এক বিতর্কে তৃণমূল নেতা-কাউন্সিলররা, গ্রেফতার উপপ্রধান, প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, ‘মধুচক্র’ অভিযোগে আটক কাউন্সিলর

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি। পোস্ট পোল ভায়োলেন্স মামলায় গ্রেফতার করা হল দত্তপুকুর ২ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মান্তু সাহাকে। পাশাপাশি বরানগরে এক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে প্রকাশ্যে কান ধরে ক্ষমা চাইতে দেখা গেল। অন্যদিকে বনগাঁয় বাড়ির মধ্যে ‘মধুচক্র’ চালানোর অভিযোগে তৃণমূল কাউন্সিলরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন গ্রামবাসীরা।
২০২১ সালের পোস্ট পোল ভায়োলেন্সের ঘটনায় নাম জড়ায় দত্তপুকুর ২ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মান্তু সাহার। সেই ঘটনায় দত্তপুকুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অবশেষে মান্তু সাহাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অন্যদিকে বরানগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর বাসব দাশগুপ্ত ওরফে দাদনকে প্রকাশ্যে কান ধরে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি কাজকর্ম ও খারাপ ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যেই ক্ষমা প্রার্থনা করেন ওই প্রাক্তন কাউন্সিলর।
জানা গিয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বরানগর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর প্রতিনিধি ছিলেন বাসব চন্দ্র ঘোষ ওরফে দোদন। একইসঙ্গে কাঞ্চন দে নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, তিনি বরানগর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর প্রতিনিধি আলপনা নাহার ঘনিষ্ঠ।
এদিকে বনগাঁ থানার কালুপুর পাঁচপোতা এলাকায় আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, একটি বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ‘মধুচক্র’ চালাচ্ছিলেন বনগাঁ পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুকুমার রায়। বুধবার দুপুরে গ্রামবাসীরা ওই বাড়িতে হানা দিয়ে দুই মহিলা ও দুই যুবকের সঙ্গে কাউন্সিলরকে আটক করেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বাইরে থেকে মহিলা-পুরুষদের এনে ওই বাড়িতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও কোনও কর্ণপাত করা হয়নি। বুধবার গ্রামবাসীরা বাড়ির ভিতরে ঢুকে কাউন্সিলর ও দুই যুবককে মহিলাদের সঙ্গে মদ্যপান করতে দেখেন বলেও দাবি করেন।
পরে ওই দুই মহিলার সঙ্গে কথা বলে গ্রামবাসীরা জানতে পারেন, তাঁদের বাড়ি নদিয়ার শান্তিপুরে। এরপর সবাইকে বাড়ির ভিতরেই আটকে রেখে বনগাঁ থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দুই মহিলা, কাউন্সিলর ও এক যুবককে থানায় নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
এই ঘটনায় বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে ওই কাউন্সিলর দীর্ঘদিন ধরে মধুচক্র চালাচ্ছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর সুকুমার রায়। তাঁর দাবি, ওই মহিলারা বাড়ি ভাড়া নেওয়ার জন্য এসেছিলেন। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top