গবাদি পশু জবাই নিয়ে রাজ্যের নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ নয়, জনসমক্ষে জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল হাইকোর্ট

গবাদি পশু জবাই নিয়ে রাজ্যের নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ নয়, জনসমক্ষে জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল হাইকোর্ট

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – Calcutta High Court পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকায় আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করতে চাইল না। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি Sujay Paul এবং বিচারপতি Partha Sarathi Sen-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আদালতের আগের নির্দেশ মেনেই রাজ্য সরকার এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। পাশাপাশি জনসমক্ষে গবাদি পশু জবাইয়ের উপর নিষেধাজ্ঞাও বহাল রাখা হয়েছে।
শুনানির সময় আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, “গরু কোরবানি ঈদের অংশ হতে পারে না।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য সরকার। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়, প্রশাসনের লিখিত অনুমতি এবং ১৪ বছরের বেশি বয়সি অথবা স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারানো পশুর শংসাপত্র ছাড়া কোনও গবাদি পশু জবাই করা যাবে না।
বকরি ঈদের আগে এই নির্দেশিকা জারি হওয়ায় রাজ্যজুড়ে তীব্র আইনি বিতর্ক তৈরি হয়। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। বুধবার আরও কয়েকটি মামলা জমা পড়ার পর সবগুলি একত্রিত করে বৃহস্পতিবার শুনানি হয়।
শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র ১৪ বছরের বেশি বয়সি অথবা স্থায়ীভাবে অক্ষম গবাদি পশুকেই জবাইয়ের জন্য উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর বাইরে কোনও পশু হত্যা করা যাবে না। পাশাপাশি মাংস কাটার ক্ষেত্রেও স্থানীয় প্রশাসন বা প্রাণিসম্পদ দফতরের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক বলে আদালতকে জানানো হয়।
অন্যদিকে মামলাকারী সংগঠন Jamiat-e-Ulema-র আইনজীবী Bikash Ranjan Bhattacharya যুক্তি দেন, কোনও আইন দীর্ঘদিন কার্যকর না থাকলে তার বাস্তব প্রয়োগও দুর্বল হয়ে যায়। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে আদালত জানায়, প্রতি বছরই এই সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। ফলে আইন কার্যকর ছিল না— এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, জনসমক্ষে পশুজবাই নিষিদ্ধ— এই শর্ত স্পষ্টভাবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করতে হবে রাজ্য সরকারকে। পাশাপাশি ধারা ১২ অনুযায়ী, ছাড়ের আবেদন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শংসাপত্র প্রদানের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো পর্যালোচনা করার কথাও বলা হয়েছে রাজ্যকে।
যদিও এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে মামলা এখনও চলবে। তবে আপাতত রাজ্যের নির্দেশিকার উপর কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top