রাজ্য – Suvendu Adhikari এখন রয়েছেন নয়াদিল্লিতে। সেখানে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-র সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। শুক্রবার সবকিছু ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন তিনি। এছাড়াও একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে দিল্লিতে ব্যস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেও রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে আগেভাগেই নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আগামী রাজ্য বাজেটের আগে বিজেপি বিধায়কদের নিজেদের এলাকায় সক্রিয়ভাবে ঘুরে সমস্যার খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, রাস্তা, পানীয় জল থেকে শুরু করে স্থানীয় উন্নয়নের বিভিন্ন সমস্যা লিপিবদ্ধ করে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী জুন মাসে রাজ্য বাজেট পেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বাজেটের আগে প্রত্যেক বিধায়ককে নিজের এলাকার বাস্তব পরিস্থিতির বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। ফলে শুভেন্দু দিল্লিতে থাকলেও রাজ্যে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বাড়াতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।
এই প্রসঙ্গে Niladri Sekhar Dana বলেন, গত পাঁচ বছর বিধায়ক থাকার সুবাদে এলাকার সমস্যা সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। ভোট প্রচারের সময় প্রতিটি গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরাসরি সমস্যার কথা শুনেছেন বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে আগামী দু’সপ্তাহ ফের এলাকায় ঘুরে উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব তৈরি করে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ওই বিধায়ক।
এদিকে বর্ষা আসার আগেই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিতেও জোর দিতে বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে যাতে কোনও সমস্যা না তৈরি হয়, সেই বিষয়েও সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলির পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের বলা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানার ওসি ও আইসিদেরও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, রাজ্যে বালির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়েও প্রশাসনকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। বৈধ খাদান যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে এবং বেআইনি খাদানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে বিষয়েও ভূমি দফতর ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সতর্ক করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে অতিরিক্ত দামে বালি কিনতে বাধ্য না হন, সেই দিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে।
রাজ্য বাজেটের আগে এলাকার সমস্যা, উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে বিধায়কদের সরাসরি মাঠে নামার নির্দেশ রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

















