ট্রাম্পের মন্তব্যে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ঝড়, সরকারের নীরবতা নিয়ে তীব্র আক্রমণ বিরোধীদের

ট্রাম্পের মন্তব্যে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ঝড়, সরকারের নীরবতা নিয়ে তীব্র আক্রমণ বিরোধীদের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে। বিরোধী দলগুলির একযোগে দাবি, এই মন্তব্য নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। বিরোধীদের অভিযোগ, ট্রাম্পের একের পর এক বক্তব্যে ভারতের আন্তর্জাতিক মর্যাদা প্রশ্নের মুখে পড়লেও সরকার কার্যত নিশ্চুপ।
বিরোধী শিবিরের মতে, এই নীরবতা দুর্বলতা, আত্মসমর্পণ এবং ব্যর্থ কূটনীতিরই প্রতিফলন। তাদের অভিযোগ, বিজেপির বহুল প্রচারিত স্লোগান— ‘মোদি বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত নেতা’— ট্রাম্পের ধারাবাহিক মন্তব্যে ভেঙে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনও শক্ত প্রতিক্রিয়া না আসায় সেই প্রচারের ফাঁপা বাস্তবতাই সামনে এসেছে বলে দাবি বিরোধীদের।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ কটাক্ষ করে বলেন, “হোয়াইট হাউসে বসে থাকা প্রধানমন্ত্রীর তথাকথিত ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ ভারতের ক্ষেত্রে কখনও গরম, কখনও ঠান্ডা নীতি নিচ্ছেন। ‘নমস্তে ট্রাম্প’, ‘হাউডি মোদি’, সেই সব জোর করে আলিঙ্গন— এসব নাটক ভারতের কোনও কাজে আসেনি।” তাঁর অভিযোগ, মোদি সরকার বিদেশনীতিকে কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে না দেখে ইভেন্ট, ফটো-অপ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রদর্শনীতে নামিয়ে এনেছে। তাঁর প্রশ্ন, দেশের সম্মান বারবার ক্ষুণ্ণ হলেও প্রধানমন্ত্রী কেন নীরব? এই নীরবতা কি জাতীয় স্বার্থরক্ষায় ব্যর্থতারই স্বীকারোক্তি?
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “এটা আরেকটি অপমান। তবু প্রধানমন্ত্রী মোদি উপযুক্ত জবাব দেওয়ার সাহস দেখাবেন না। ট্রাম্পের সামনে শুধু কাপুরুষোচিত নীরবতা।” তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দল ও সংখ্যালঘুদের আক্রমণে মোদি ও তাঁর মন্ত্রীরা সরব হলেও বিদেশি নেতার সামনে সেই গলা হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে যায়।
বিরোধীদের মতে, বিষয়টি নিছক রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে ভারতের বিদেশনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা, কৌশলগত স্বাধীনতা এবং জাতীয় মর্যাদা। অথচ সংসদে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কোনও আলোচনা না করে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের স্পষ্ট দাবি, ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা করা হোক এবং দেশবাসীর সামনে সরকার জানাক— এই মন্তব্যের কূটনৈতিক তাৎপর্য কী এবং ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top