বিনোদন – বারাণসীর এক ঘাটে দ্বিতীয় বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন অভিনেতা ও বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল—সর্বত্র চলছে জোর চর্চা। অভিযোগ উঠেছে, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না ঘটিয়েই নাকি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তিনি।
সম্প্রতি বারাণসীর একটি ঘাটে নিজের দ্বিতীয় বিয়ের ছবি পোস্ট করেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তার পরপরই প্রকাশ্যে আসেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ডিভোর্স না দিয়েই ফের বিয়ে করেছেন বিধায়ক। বিষয়টি সামনে আসতেই তুমুল বিতর্ক শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল আকার নেয় যে অনিন্দিতা ও তাঁদের কন্যা পুলিশের দ্বারস্থ হন।
এই গোটা সময় জুড়ে কার্যত নীরব ছিলেন হিরণ। প্রায় দু’সপ্তাহ পর অবশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “আমি কলকাতায় ছিলাম না। দীর্ঘদিন চেন্নাইতে ছিলাম। বিষয়টি এখন বিচারাধীন। তাই এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। আদালতের অসম্মান করার প্রশ্নই ওঠে না।”
অনিন্দিতার অভিযোগের ভিত্তিতে আনন্দপুর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হিরণ চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর স্ত্রীর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন। পাশাপাশি, বিবাহিত অবস্থায় হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও হৃতিকা গিরির মধ্যে অবৈধ বিবাহবন্ধন হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৮২(১), ৮৫ ও ৫৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
অন্যদিকে, এই বিতর্কের মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন হৃতিকা গিরি। বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ বলে দাবি করা হৃতিকার বক্তব্য, তাঁদের এই বিয়ে কোনও গোপন সম্পর্কের ফল নয়, বরং দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্কের স্বাভাবিক পরিণতি। তিনি আরও দাবি করেছেন, তাঁর বয়স নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং অনিন্দিতাকে আগেই ডিভোর্সের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সংঘাতে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিবাহ-বিতর্ক এখন আদালতের বিচারের অপেক্ষায়। আগামী দিনে এই মামলার গতিপ্রকৃতির দিকেই নজর থাকবে সকলের।



















