বিদেশ – ভারতীয় সৌরশক্তি রপ্তানি শিল্পের সামনে বড়সড় ধাক্কা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রশাসন ভারতের সৌরশক্তি সংক্রান্ত পণ্যের উপর প্রাথমিকভাবে ১২৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে। এর ফলে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য এবং এই খাতের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি পারস্পরিক শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত মামলায় Supreme Court of the United States-এ ট্রাম্প প্রশাসন আইনি ধাক্কা খেয়েছে। তবুও শুল্ক নীতিতে আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি। প্রথমে বিশ্বের প্রায় সব দেশের উপর ১০ শতাংশ হারে গ্লোবাল ট্যারিফ আরোপ করা হয়, পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও লাওসের সৌরশক্তি পণ্য।
সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ ভারতের সৌর পণ্যের ক্ষেত্রে ১২৬ শতাংশ প্রাথমিক আমদানি শুল্ক ধার্য করেছে। ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে এই হার ৮৬ থেকে ১৪৩ শতাংশ এবং লাওসের ক্ষেত্রে ৮১ শতাংশ। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, বিদেশি ভর্তুকির ফলে এই দেশগুলির সংস্থাগুলি কম দামে সৌর পণ্য বিক্রি করতে পারছে, যা আমেরিকার দেশীয় উৎপাদকদের জন্য ক্ষতিকর। তাই এই শুল্কের মাধ্যমে ঘরোয়া শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ভারতের উপর যথেষ্ট গভীর হতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আমেরিকা ভারত থেকে প্রায় ৭৯২.৬ মিলিয়ন ডলারের সৌরশক্তি পণ্য আমদানি করেছিল, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। শুধু ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও লাওস মিলিয়ে ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে মার্কিন সৌর মডিউল আমদানির প্রায় ৫৭ শতাংশ এসেছে। ফলে নতুন শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় রপ্তানি মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেতে পারে। একই সঙ্গে Waaree Energies ও Premier Energies-এর মতো সংস্থার শেয়ারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট IEEPA আইনের আওতায় ট্রাম্পের আরোপিত পারস্পরিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়। তার পর থেকেই একের পর এক দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ট্রাম্প। ধারা ১২২ ব্যবহার করে ১৫০ দিনের জন্য গ্লোবাল ট্যারিফ কার্যকর করা হয়েছে, যার মেয়াদ বাড়াতে ভবিষ্যতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এরই মধ্যে সৌর খাতে এই নতুন শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাব শুধু ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কেই নয়, বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য শক্তি শিল্পেও পড়তে পারে।



















