খেলা – টি-২০ বিশ্বকাপে টালমাটাল শুরু থেকে অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে নতুন অধ্যায় লিখলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক Harry Brook। তাঁর দুরন্ত শতরানের সৌজন্যে সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল England cricket team। অন্যদিকে এই হারের পর কার্যত বিদায়ের মুখে দাঁড়িয়ে Pakistan cricket team।
টুর্নামেন্টের শুরুতে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স দেখে সেমিফাইনাল তো দূরের কথা, নকআউট নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। নেপালের বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার এবং স্কটল্যান্ড ও ইতালির বিরুদ্ধে লড়াই করে জেতা—সব মিলিয়ে দলটি ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অধিনায়ক ব্রুক প্রমাণ করলেন কেন তিনি দলের সবচেয়ে বড় ভরসা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই চাপে পড়ে। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অন্যদিকে দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে দল। সাইম আয়ুব ও সলমন আলি আঘা দ্রুত ফিরলে পাওয়ার প্লেতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। পরে অধিনায়ক Babar Azam ও Fakhar Zaman-এর সঙ্গে জুটি গড়ে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন ফারহান।
ফারহান ৬৩ রান করে আউট হওয়ার পর পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে। মাঝের ও শেষের সারির ব্যাটাররা বড় রান তুলতে ব্যর্থ হন। যে ইনিংস একসময় ১৭৫ ছুঁতে পারে বলে মনে হচ্ছিল, তা শেষ পর্যন্ত থামে ৯ উইকেটে ১৬৪ রানে। শাদাব খান করেন ২৫ রান।
১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটাও ছিল হতাশাজনক। মাত্র ১৭ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। এরপর একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হ্যারি ব্রুক। একদিকে নিয়মিত উইকেট পড়লেও অন্য প্রান্তে অবিচল থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান তিনি।
মাত্র ৫১ বলে দুরন্ত শতরান করে ইতিহাস গড়েন ব্রুক। টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনও অধিনায়কের এটিই প্রথম শতরান। ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারের কেউ দুই অঙ্কও ছুঁতে না পারলেও তাঁর ব্যাটেই ম্যাচে ফিরে আসে দল। শেষ দিকে Will Jacks (২৮) প্রয়োজনীয় রান তুলে জয়ের সিলমোহর দেন।
২ উইকেটের এই নাটকীয় জয়ে ইংল্যান্ড শুধু সেমিফাইনাল নিশ্চিতই করল না, টানা পাঁচটি বিশ্বকাপের সেমিতে ওঠার নজিরও গড়ল—যা একটি রেকর্ড।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত কঠিন। দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের রাস্তা প্রায় বন্ধ। শেষ ম্যাচ জেতার পাশাপাশি তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের ফলাফলের দিকে।




















