রাজ্য -;সামনেই বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গে। তার আগেই রাজ্যজুড়ে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। কোথাও প্রকাশ্যে খুন, কোথাও গুলি, আবার কোথাও উদ্ধার হচ্ছে তাজা বোমা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার ও All India Trinamool Congress-কে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি Adhir Ranjan Chowdhury। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, তৃণমূলের ইন্ধনেই অশান্ত হচ্ছে বাংলা।
মঙ্গলবার ভাঙড়ের বানিয়ারা গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে ২৮টি তাজা বোমা ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বিস্ফোরকগুলি সদ্য তৈরি ও অত্যন্ত শক্তিশালী। অন্যদিকে হাওড়ায় প্রকাশ্যে এক প্রোমোটারকে গুলি করে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে সেই নৃশংস দৃশ্য। অভিযুক্তদের একজনের তৃণমূল যোগ রয়েছে বলে দাবি উঠেছে। একটি ভাইরাল ছবিতে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক Goutam Chowdhuri-র বাইকের পিছনে বসে থাকতে দেখা যায় অভিযুক্ত হারুন খানকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিধায়ক।
ক্রমাগত সন্ত্রাসের ঘটনার প্রেক্ষিতে অধীর চৌধুরী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে খুন ও বোমা উদ্ধারের ঘটনা আরও বাড়বে— কোথাও তা প্রকাশ পাচ্ছে, কোথাও লুকিয়ে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee ও তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে খুন, বোমা-গুলি, দুর্নীতি ও লুট রোজকার ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ভাঙড়ের ঘটনায় কটাক্ষ করে তিনি বলেন, নতুন থানা উদ্বোধনের আগেই তাজা বোমা উদ্ধার হচ্ছে, বাংলা এখন বারুদের স্তূপে দাঁড়িয়ে।
রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, বাইরে থেকে বাহিনী এলেই সমস্যার সমাধান হবে না, সন্ত্রাস বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে নির্বাচন ঘোষণার আগেই আগামী মাসের শুরুতে বাংলায় আসছে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী।
Ministry of Home Affairs-র তরফে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, এলাকাভিত্তিক টহল, আস্থা গড়ে তোলা, ইভিএমের পাহারা, স্ট্রং রুম ও গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই মোতায়েন। সূচি অনুযায়ী ১ মার্চ প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি পৌঁছবে। এর মধ্যে থাকবে Central Reserve Police Force-এর ১১০, Border Security Force-এর ৫৫, Central Industrial Security Force-এর ২১, Indo-Tibetan Border Police-এর ২৭ এবং Sashastra Seema Bal-এর ২৭ কোম্পানি।
গত কয়েক বছরে ভোটকে কেন্দ্র করে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে বাংলা। সেই প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এতদিন ভোট ঘোষণার পর বা তার কিছুদিন আগে বাহিনী আসত। এ বছর নির্বাচন ঘোষণার আগেই এত বড় সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।




















