কলকাতা – কলকাতায় জমি দখল, প্রতারণা এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে একটি বড় চক্রের সন্ধান পেয়েছে Enforcement Directorate (ইডি)। এই মামলায় মূল অভিযুক্ত জয় এস কামদারকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে।
তদন্তকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষকে ভুয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে তাঁদের সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য। শুধু তাই নয়, এই চক্রের সঙ্গে প্রশাসনের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল বলেও সন্দেহ করছে ইডি।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার একটি শিক্ষা সংক্রান্ত ট্রাস্ট থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই চক্রের মূল মাথা হিসেবে জয় এস কামদারের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত ভুয়ো মামলা তৈরি করে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি দখল করা হতো।
গত ২৬ এপ্রিল Kolkata-এর তিনটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। সেই অভিযানে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা নগদ, সোনা-গয়না, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ডিভাইস থেকে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগের তল্লাশিতে আরও বড় অঙ্কের অর্থ ও সামগ্রী উদ্ধার হয়েছিল বলে জানা যায়। ইডি জানিয়েছে, প্রায় ১.৪৭ কোটি টাকা নগদ, ৬৭ লক্ষ টাকার সোনা-রুপো এবং একটি বেআইনি রিভলভার উদ্ধার হয়। ফলে আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি বেআইনি অস্ত্রের যোগও থাকতে পারে বলে সন্দেহ বাড়ছে।
এই মামলায় কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক Shantanu Sinha Biswas-এর নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ, অভিযুক্ত জয় কামদার প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলতেন এবং প্রভাব বজায় রাখতে দামি উপহারও দেওয়া হতো।
১৯ এপ্রিল জয় কামদার গ্রেপ্তারের পর কলকাতা ও ব্যারাকপুরে মোট ছয়টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে ওই পুলিশ আধিকারিকের বাড়িও ছিল। তবে তল্লাশির সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে। পরে ইডি তাঁকে হাজিরার নোটিস পাঠালেও তিনি এখনও তদন্তকারীদের সামনে হাজির হননি।
সব মিলিয়ে, জমি দখল ও আর্থিক প্রতারণার এই চক্রকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।




















