মুর্শিদাবাদ – তিন বছরের প্রেম পরিণতি পেল না পণের দাবিতে, আর সেই আঘাত সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হলেন এক তরুণী। বুধবার সকালে Murshidabad জেলার ইসলামপুরের লোচনপুর মধ্যপাড়ায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, দাবি মতো যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায় প্রেমিক বিয়ে ভেঙে দেন, যার জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেয় তরুণী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম Muslima Khatun (১৯)। ইসলামপুর থানার কেশবপুর গ্রামের Asgar Ali-র সঙ্গে তিন বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি সম্পর্কের কথা দুই পরিবারের কাছে প্রকাশ্যে এলে প্রথমে বিয়েতে সম্মতিও জানানো হয়। মঙ্গলবার দুই পরিবারের সদস্যরা বসে বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করেন।
মৃতার বাবা Pintu Mondal-এর দাবি, আলোচনার সময় আসগরের বাবা Hasibul Sheikh নগদ ৫ লক্ষ টাকা, ২ ভরি সোনার গয়না, ঘরের আসবাবপত্র এবং একটি মোটরবাইক দাবি করেন। এত বড় অঙ্কের পণ দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে মুসলিমার পরিবার নগদ ২ লক্ষ টাকা, সোনা ও আসবাব দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তাতে রাজি হননি আসগরের পরিবার এবং সেখানেই বিয়ের আলোচনা ভেস্তে যায়।
পরিবারের অভিযোগ, এরপর মুসলিমা তাঁর প্রেমিককে ফোন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। কিন্তু আসগর তাঁর কথা না শুনে উল্টে তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেন। এই ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মুসলিমা।
বুধবার সকালে তাঁর ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। মেয়ের মৃত্যুর জন্য প্রেমিক ও তাঁর বাবাকেই দায়ী করেছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই আসগর ও তাঁর বাবাকে আটক করেছে। ডোমকলের এসডিপিও Shubham Bajaj জানিয়েছেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পণের দাবিকে কেন্দ্র করে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা আবারও সমাজে যৌতুক প্রথার ভয়াবহ দিককে সামনে নিয়ে এল।




















